রবিবার, ২৪ মে ২০২৬, ০২:১৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে কিশোরগঞ্জের যুবক নিহত আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রশংসিত ‘ময়না’ রাত ১টার মধ্যে ৬০ কিমি বেগে ঝড় হতে পারে যেসব এলাকায় কোরবানির জন্য গরু দেখতে গিয়ে নিভে গেল দুই বন্ধুর প্রাণ তিন ঘণ্টার ব্যবধানে সড়কে ঝরল ১৩ প্রাণ নতুন মামলায় গ্রেপ্তার সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক অনলাইন জুয়া-অর্থপাচার চক্রে সিআইডির অভিযান, তিনজন গ্রেপ্তার ঈদে নৌপথে নিরাপদ যাতায়াত ও দুর্ঘটনা রোধে কাজ করছে কোস্ট গার্ড ২ বছরের মধ্যে ঢাকাকে বাসযোগ্য নগরীতে রূপান্তর করা হবে : ডিএসসিসি প্রশাসক কোন ফাইলে অনিয়ম হয়েছে তা প্রকাশে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীকে আসিফ মাহমুদের চ্যালেঞ্জ

বাংলাদেশ ও কাজী নজরুল ইসলাম এক অবিভাজ্য সত্তা : প্রধানমন্ত্রী

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬

শনিবার (২৩ মে) বিকেল ৪টা ৩৫ মিনিটে ময়মনসিংহের ত্রিশালের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম অডিটোরিয়াম মাঠে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মজয়ন্তীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে বেলা ৩টার দিকে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম অডিটোরিয়ামে আসন গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী ২৫ মে বাংলাদেশের জনগণের পরম প্রিয়জন কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী। তার চিরঅম্লান স্মৃতির প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। কৃতজ্ঞতার সঙ্গে তাকে স্মরণ করছি। ২০০৬ সালের পর থেকে জাতীয় কবির অমর স্মৃতিবিজড়িত ত্রিশালে জাতীয় পর্যায়ে নজরুলজয়ন্তী উদযাপন হয়নি। প্রায় দুই দশক পর আজ পুনরায় রাষ্ট্রীয়ভাবে জাতীয় কবির জন্মজয়ন্তীর আয়োজন করতে পেরে সরকার গৌরববোধ করছে। এ অনুষ্ঠানে অনেকে হয়তো একটি নামের সঙ্গে পরিচিত নন। আমি গভীর কৃতজ্ঞতার সঙ্গে এমন একজন মানুষকে স্মরণ করতে চাই। তিনি ছিলেন মরহুম দারোগা রফিজ উল্লাহ। এই মানুষটি ১৯১৪ সালে কবি নজরুল ইসলামকে ত্রিশালের কাজির শিমলা গ্রামে নিজ বাড়িতে এনে আশ্রয় দিয়েছিলেন।

তিনি আরও বলেন, আমাদের জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের যদি আমরা গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ কিংবা বরণ করতে না পারি, তবে এটি তাদের নয়; বরং জাতি হিসেবে আমাদেরই দৈন্যতার প্রকাশ। এ প্রজন্মের অনেকেই হয়তো জানেন না, ১৯৭৬ সালে ঢাকার শেরেবাংলা উদ্যানে জাতীয় কবির নামাজে জানাজার পর কবির লাশবাহী খাটিয়া যারা কাঁধে করে বহন করেছিলেন, তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।

তারেক রহমান বলেন, ১৯৭৯ সালের ২৫ মে জাতীয় কবির জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে ঢাকার ফার্মগেট থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কবির মাজার পর্যন্ত অনুষ্ঠিত একটি র‍্যালিতেও অংশ নিয়েছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। ত্রিশালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। এভাবে জাতির কবির প্রতি সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা ও সম্মান প্রদর্শনের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে— কাউকে সম্মান জানালে নিজের সম্মান নষ্ট হয় না; বরং বিনয় মানুষকে মহিমান্বিত করে। আমি মনে করি, এই কালজয়ী আদর্শ থেকে দূরে সরে যাওয়ার কারণেই বর্তমানে আমাদের সমাজে মূল্যবোধের অবক্ষয় দৃশ্যমান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের জাতীয় ইতিহাসে অবিস্মরণীয় নাম কাজী নজরুল ইসলাম। পরাধীন, পর্যুদস্ত ও পরাভূত জাতির ভাগ্য-আকাশে তার আবির্ভাব ছিল আলোকবর্তিকার মতো। আমাদের আশা, আকাঙ্ক্ষা, স্বপ্ন, সংগ্রাম, সাহিত্য, সংস্কৃতি, ইতিহাস ও ঐতিহ্য তার রচনার মধ্যে মহিমান্বিত সৌন্দর্যে ভাস্বর হয়ে আছে। বিপ্লব, বিদ্রোহ কিংবা রণসংগীত, ইসলামী তমদ্দুন কিংবা ইসলামী মূল্যবোধের গান অথবা ভজন, কীর্তন কিংবা শ্যামাসংগীত, প্রেম-প্রকৃতি কিংবা মানবিক মূল্যবোধ, কৈশোরের আনন্দ কিংবা যৌবনের উন্মাদনা— প্রতিটি ক্ষেত্রেই নজরুল ইসলাম আমাদের শুদ্ধ প্রকাশ। কাজী নজরুল ইসলাম মানেই বাংলা সাহিত্যে এক নতুন ভোরের উদয়, এক নতুন রুচির বিপ্লব। তিনিই কবিতায় এনেছেন যুদ্ধের গর্জন। কণ্ঠে তুলে নিয়েছেন রাষ্ট্রীয় ও আর্থিক স্বাধীনতার বজ্রনিনাদ। তিনি ছিলেন নারী অধিকার, মেহনতি মানুষের কল্যাণ ও অসাম্প্রদায়িক বিশ্বমানবতার এক অনন্য ফেরিওয়ালা। এই মহাকবি বাংলাদেশের অবিনাশী সংস্কৃতির চিরযৌবনের প্রতীক। তিনি আমাদের হৃদয়ে জাগ্রত হয়ে আছেন, ইনশাআল্লাহ থাকবেন।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, একটি নিরাপদ ও মানবিক রাষ্ট্র এবং সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে হলে আমাদের আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতেই হবে। রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন ঘটাতে হবে। একই সঙ্গে আমাদের জাতীয় জীবনে পুনরায় বাংলাদেশের আবহমানকালের ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের পুনর্জাগরণ ঘটাতে হবে। এক্ষেত্রেও কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন ও কর্ম আমাদের জন্য অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।

নজরুল জন্মজয়ন্তীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য দেন ত্রিশালের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান এবং স্মারক বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক তারিক মনজুর। অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কবিপৌত্রী ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ইনস্টিটিউট ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান খিলখিল কাজী এবং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক মো. লতিফুল ইসলাম।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম প্রমুখ। অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান। এছাড়াও অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, বিভিন্ন সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।

পরে বিকেল ৫টায় ত্রিশালের নজরুল অডিটোরিয়ামে ময়মনসিংহ উত্তর, দক্ষিণ ও মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সভায় যোগ দেন তিনি।

দীর্ঘ দুই দশক পর জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী জাতীয় পর্যায়ে উদযাপন উপলক্ষে ত্রিশালে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় তিনদিনব্যাপী নজরুল মেলা, আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জেলা প্রশাসন। এ বছরের উদযাপনের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে— ‘দ্রোহের কবি, প্রাণের কবি নজরুল’।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা। সাদা পোশাকের পাশাপাশি ইউনিফর্ম পরিহিত পুলিশ সদস্য, সেনাবাহিনী ও অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102