শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬, ১২:৩৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :

ভেঙে দেওয়া হয়েছে ইসরায়েলি পার্লামেন্ট, চাপে নেতানিয়াহু

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬

ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেট ভেঙে দিয়ে আগাম জাতীয় নির্বাচনের পথ তৈরি করতে একটি বিলের প্রাথমিক অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (২০ মে) অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে বিলটির পক্ষে ১১০ জন আইনপ্রণেতা ভোট দেন, বিপক্ষে কোনো ভোট পড়েনি।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, বিলটি এখন সংসদীয় কমিটিতে যাবে। সেখানে নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণের পর এটি আরও তিনটি পাঠের জন্য নেসেটে উপস্থাপন করা হবে। চূড়ান্তভাবে অনুমোদন পেলে ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের প্রক্রিয়া শুরু হবে। বর্তমানে আগামী ২৭ অক্টোবরের মধ্যে নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতায় থাকা প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোটই সংসদ ভেঙে দেওয়ার বিলটি উত্থাপন করেছে। তবে তার জোট বর্তমানে বড় ধরনের রাজনৈতিক চাপে রয়েছে। বিশেষ করে অতি-গোঁড়া ইহুদি দলগুলো নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ তুলেছে।

তাদের দাবি, ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ‘ইয়েশিভা’র শিক্ষার্থীদের বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা থেকে স্থায়ী অব্যাহতি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি সরকার রক্ষা করতে পারেনি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর থেকে নেতানিয়াহুর জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

বিভিন্ন জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে, পরবর্তী নির্বাচনে তার নেতৃত্বাধীন লিকুদ জোট সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে ব্যর্থ হতে পারে।

এদিকে ইসরায়েল বর্তমানে গাজায় হামাস, লেবাননে হিজবুল্লাহ এবং ইরানের সঙ্গে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে। চলমান সংঘাত ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের দুর্নীতির মামলাও এখনো চলমান। এ ছাড়া তার স্বাস্থ্য নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। সম্প্রতি তিনি জানিয়েছেন, তিনি সফলভাবে প্রোস্টেট ক্যানসারের চিকিৎসা নিয়েছেন এবং ২০২৩ সালে তার শরীরে পেসমেকার স্থাপন করা হয়েছে।

হিব্রু বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক গিডিয়ন রাহাত বলেন, নেতানিয়াহু সম্ভবত অক্টোবরের আগেই নির্বাচন চান, যাতে ৭ অক্টোবরের হামলার নিরাপত্তা ব্যর্থতা নিয়ে ব্যাপক রাজনৈতিক আলোচনা শুরু হওয়ার আগেই ভোট সম্পন্ন করা যায়।

অন্যদিকে বিরোধী নেতারা ইতোমধ্যে নির্বাচনি প্রচার শুরু করেছেন। বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ বলেছেন, ‘আজ থেকেই নির্বাচনি প্রচার শুরু হলো। এই নির্বাচন হবে আশা ও ভয়, সততা ও দুর্নীতির মধ্যকার লড়াই।’

সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেটও নেতানিয়াহুকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘সব শেষ। এবার বিদায় নেওয়ার সময় এসেছে।’

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, বিরোধী দলগুলোও যদি ঐক্যবদ্ধ সরকার গঠনে ব্যর্থ হয়, তাহলে আবারও রাজনৈতিক অচলাবস্থার সৃষ্টি হতে পারে। সে ক্ষেত্রে নেতানিয়াহু অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান হিসেবেই ক্ষমতায় থাকতে পারেন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102