বাংলাদেশের ই-পাসপোর্টে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হচ্ছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, পাসপোর্টে আবারও যুক্ত হতে যাচ্ছে ‘ইসরায়েল ব্যতীত’ (এক্সসেপ্ট ইসরায়েল) শব্দবন্ধ। কয়েক বছর আগে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের তুলে নেওয়া এই শর্ত পুনর্বহালের উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান সরকার। একই সঙ্গে পাসপোর্টের ভেতরের জলছাপে থাকা বিভিন্ন স্থাপনা ও প্রতীকেও বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, দেশের পররাষ্ট্রনীতি, ফিলিস্তিন ইস্যুতে দীর্ঘদিনের অবস্থান এবং জনমতের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। গত বছরের এপ্রিলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাসপোর্ট অধিদপ্তরকে আগের মতো ‘ইসরায়েল ব্যতীত’ শর্ত পুনরায় যুক্ত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়। তবে সেটি সীমিত পর্যায়ে কার্যকর হয়েছিল।
এবার সরকার সব ধরনের পাসপোর্টে বিষয়টি বাস্তবায়নের প্রস্তুতি নিচ্ছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২০ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ই-পাসপোর্ট চালুর সময় পাসপোর্ট থেকে ‘ইসরায়েল ব্যতীত’ শব্দবন্ধ বাদ দেওয়া হয়েছিল। এর আগে বাংলাদেশি পাসপোর্টে উল্লেখ থাকত যে, এটি বিশ্বের সব দেশের জন্য বৈধ, তবে ইসরায়েলের ক্ষেত্রে নয়।
বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর পাসপোর্টের নকশা ও তথ্যসংক্রান্ত কিছু পরিবর্তনের উদ্যোগ নেয়। এ নিয়ে সম্প্রতি একাধিক বৈঠক হয়েছে এবং নীতিগত অনুমোদনও মিলেছে বলে জানা গেছে।
ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ধাপে ধাপে নতুন সংস্করণের পাসপোর্টে এই পরিবর্তন আনা হবে। যাদের পুরোনো পাসপোর্ট রয়েছে, তাদের জন্য তাৎক্ষণিক কোনো সমস্যা হবে না। মেয়াদ শেষ হলে নবায়নের সময় নতুন নকশার পাসপোর্ট দেওয়া হবে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ই-পাসপোর্টের পাতায় থাকা কয়েকটি জলছাপ ও ছবি বাদ দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে টুঙ্গিপাড়ায় শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিসৌধ, স্বাধীনতা স্তম্ভ, বঙ্গবন্ধু সেতু, বঙ্গবন্ধু নভোথিয়েটার, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট, পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, কক্সবাজার সৈকতে নৌকার ছবি, কান্তজিউ মন্দির এবং মুজিবনগর স্মৃতিসৌধসহ আরও কিছু স্থাপনা।
অন্যদিকে নতুন করে যুক্ত হচ্ছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় আবু সাঈদের দুই হাত প্রসারিত করে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ছবি। পাশাপাশি বঙ্গভবন, জামদানি শাড়ি, কাঁঠাল, ইলিশ, টাঙ্গুয়ার হাওর, মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত, আহসান মঞ্জিল, শালবন বিহার, নীলগিরি পাহাড়, রাজশাহীর আমবাগান, জাতীয় স্মৃতিসৌধ ও পানাম নগরীর মতো ঐতিহ্যবাহী ও প্রাকৃতিক নিদর্শনের ছবিও স্থান পাবে নতুন পাসপোর্টে।
তবে কিছু পরিচিত প্রতীক আগের মতোই রাখা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে শাপলা, রয়েল বেঙ্গল টাইগার, দোয়েল, শহীদ মিনার, সুপ্রিম কোর্ট, শিখা অনির্বাণ, লালবাগ কেল্লা, হাতিরঝিল, বায়তুল মোকাররম, কার্জন হল, ষাটগম্বুজ মসজিদ, পাট, চা-বাগান, সুন্দরবন এবং জয়নুল আবেদিনের ‘সংগ্রাম’ চিত্রকর্ম।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এসব পরিবর্তনের মাধ্যমে পাসপোর্টে দেশের পরিচয় ও প্রতীকী উপস্থাপনায় নতুন বিন্যাস আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। শিগগিরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হতে পারে।