মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬, ১১:০৩ পূর্বাহ্ন

৩৫ মাসে ৪০ মণ! বাগেরহাটে আলোচনার কেন্দ্রে ‘কালু’

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ১১ মে, ২০২৬

ফ্রিজিয়ান জাতের ‘কালু’। আকৃতি বিশাল। রং কালো ও সাদা। ওজন প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ মণ। দাম হাঁকানো হচ্ছে ১৫ লাখ। আর দাবি করা হচ্ছে জেলার সবচেয়ে বড়। এই গরুটি এখন বাগেরহাট জেলায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। 

একই খামারে আরেকটি বড় গরু ‘ধলু’। এটিও বিশাল আকৃতির। যার ওজন প্রায় ২৫ মণ। আর দাম চাওয়া হচ্ছে ১০ লাখ টাকা।

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার ১৬ নম্বর খাওলিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম খাওলিয়া গ্রামের ‘তাজু ডেইরি ফার্মে’ এই গরু দুটি লালন-পালন করা হয়েছে। খামার মালিক তাজুল ইসলামের দাবি, ফ্রিজিয়ান জাতের ‘কালু’ বর্তমানে জেলার সবচেয়ে বড় গরুগুলোর একটি।

খামার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যে ব্যক্তি ‘কালু’ বা ‘ধলু’ ক্রয় করবেন, তাকে উপহার হিসেবে দুটি ছাগল দেওয়া হবে। যার বাজার মূল্য প্রায় ৫০ হাজার টাকা।

খামার সূত্রে জানা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বড় গরুর জনপ্রিয়তা দেখে এ বছর বিশেষভাবে ‘কালু’ ও ‘ধলু’কে প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে আকার-আকৃতিতে ‘কালু’ অন্য সব গরুকে ছাড়িয়ে গেছে। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে শত শত মানুষ গরু দুটি দেখতে আসছেন। কেউ ছবি তুলছেন, আবার কেউ ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, জন্মের সময় ‘কালু’র ওজন ছিল প্রায় দুই মণ। মাত্র ৩৫ মাসে সেটি ৩৫ থেকে ৪০ মণে উন্নীত হয়েছে। সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে গরুটি লালন-পালন করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তারা।

গরু দেখতে আসা এক দর্শনার্থী বলেন, বাগেরহাট জেলায় এত বড় গরু আগে কখনো দেখিনি। ‘কালু’কে দেখতে প্রতিদিন অনেক মানুষ আসছে। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এসে ছবি তুলছে ও গরুটি নিয়ে আলোচনা করছে।

খামার মালিক তাজুল ইসলাম বলেন, জীবনে এই প্রথম এত বড় গরু পালন করেছি। প্রায় ৩৫ মাস ধরে নিজের সন্তানের মতো যত্ন নিয়ে গরুটিকে বড় করেছি। গরুটি এত বড় হয়েছে যে, গোয়ালঘর থেকে বের করাও কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। আশা করছি, ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করতে পারব। দেশের বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীরা এসে দরদাম করছেন।

তিনি আরও বলেন, গরু দুটি সম্পূর্ণ দেশীয় পদ্ধতিতে পালন করা হয়েছে। কুড়া, ভুসি ও কাঁচা ঘাস খাওয়ানো হয়। কোনো ধরনের হাইব্রিড খাবার ব্যবহার করা হয়নি। প্রতিদিন ভোরে উঠে গরুর স্থান পরিষ্কার, গোসল করানো ও নিয়ম মেনে খাবার দেওয়া হয়।

বাগেরহাট জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোহাম্মদ ছায়েব আলী জানান, জেলায় কোরবানির জন্য মোট প্রস্তুত গবাদিপশুর সংখ্যা ৮৪ হাজার ৯৬৭। এর মধ্যে জেলার চাহিদা রয়েছে ৭৭ হাজার ৮৮৯টি পশুর। চাহিদা পূরণের পর উদ্বৃত্ত থাকবে ৭ হাজার ৭৮টি গবাদিপশু।

তিনি বলেন, জেলায় পালন করা অধিকাংশ গরুই ছোট ও মধ্যম আকারের। তবে অল্প সংখ্যক বড় গরুও রয়েছে। তথ্য অনুযায়ী, মোরেলগঞ্জের একটি খামারে থাকা দুটি গরুর মধ্যে একটির ওজন প্রায় ১ হাজার ৪০০ কেজি এবং অন্যটির ওজন প্রায় ১ হাজার কেজি।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102