পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার সরকারি গান্ডতা ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে এসএসসির ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং পরীক্ষায় ভুল সেট কোডের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রোববার (১০ মে) সকাল ৯টায় অনুষ্ঠিত ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং পরীক্ষার জন্য বরিশাল শিক্ষা বোর্ড থেকে ‘১ নম্বর সেট’ প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়। নিয়ম অনুযায়ী, কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসারের মাধ্যমে নির্ধারিত সেটের প্রশ্নপত্র সরবরাহ ও যাচাই করার কথা ছিল।
তবে অভিযোগ উঠেছে, সরকারি গান্ডতা ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে দায়িত্বে থাকা ট্যাগ অফিসার ও কেন্দ্র সচিব যথাযথ যাচাই-বাছাই না করেই ‘৩ নম্বর সেট’ প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা গ্রহণ করেন। পরে পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষা শেষে অন্য কেন্দ্রের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রশ্ন মিলিয়ে বিষয়টি জানতে পারে।
এ ঘটনায় কেন্দ্রটির ৩২ জন পরীক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের মধ্যে উৎকণ্ঠা দেখা দেয়।
পরীক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার ও হুরায়রা আক্তার বলেন, ‘পরীক্ষা শেষে বাইরে এসে অন্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রশ্ন মিলিয়ে বুঝতে পারি, আমাদের সেট আলাদা ছিল। এরপর থেকেই আমরা দুশ্চিন্তায় আছি- ফলাফলে কোনো সমস্যা হবে কি না।’
এক পরীক্ষার্থীর অভিভাবক মো. নান্না মিয়া বলেন, ‘আমার মেয়ে সরকারি গান্ডতা ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে। পরে জানতে পারি, বোর্ড থেকে ১ নম্বর সেটে পরীক্ষা নেওয়ার নির্দেশনা ছিল। কিন্তু তাদের ৩ নম্বর সেটে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। এতে আমরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছি। দ্রুত সমাধান না হলে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা থেকেই যাবে।’
এ বিষয়ে কেন্দ্র সচিব ও বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী ১ নম্বর সেটে পরীক্ষা নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ভুলবশত ৩ নম্বর সেটে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রককে জানানো হয়েছে।’
কাউখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘বিষয়টি জানার পর বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা হয়েছে। তারা জানিয়েছেন, এতে পরীক্ষার্থীদের কোনো ক্ষতি হবে না। যে প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা হয়েছে, সেই প্রশ্ন অনুযায়ীই খাতা মূল্যায়ন করা হবে। ইতোমধ্যে কেন্দ্র সচিবকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া যারা দায়িত্বে অবহেলা করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক জি এম শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। যেহেতু পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে, তাই ওই কেন্দ্রের উত্তরপত্র সংশ্লিষ্ট প্রশ্নপত্র অনুযায়ী মূল্যায়ন করা হবে। শিক্ষার্থীদের ফলাফলে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। তবে দায়িত্বে অবহেলার ঘটনায় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।’