ভারতের দক্ষিণাঞ্চলের রাজ্য তামিলনাড়ুতে বিধানসভা নির্বাচন–পরবর্তী সরকার গঠন নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে। এ নির্বাচনে অভিনেতা থেকে রাজনীতিক বনে যাওয়া থালাপতি বিজয়ের দল সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেলেও সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসন পায়নি।
তামিলনাড়ু বিধানসভায় মোট আসন ২৩৪টি। এর মধ্যে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১১৮টি আসন। তবে বিজয়ের টিভিকে পেয়েছে ১০৮ আসন। অর্থাৎ ১০ আসনে পিছিয়ে আছে তারা। দলটির ধারণা ছিল, বিধানসভায় কংগ্রেসের পাওয়া পাঁচটি আসন এবং রাজ্যের ছোট দলগুলোর সাহায্যে সরকার গঠনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে তারা।
এরই মধ্যে গুঞ্জন ওঠে, থালাপতি বিজয়কে ঠেকাতে দ্রাবিড় রাজনীতির ‘চিরশত্রু’ দুই দল— এমকে স্ট্যালিনের ডিএমকে এবং পলানীস্বামীর এডিএমকে হাত মেলাতে পারে। ডিএমকে-কংগ্রেস-বাম জোট ৭৪ এবং এডিএমকে বিজেপি জোট ৫৩টি আসনে এবার জয় পেয়েছে। এরইমধ্যে ডিএমকে একক ভাবে ৫৯টি আসনে জিতলেও দলের প্রধান তথা বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী স্ট্যালিন পরাজিত। তার সহযোগী কংগ্রেস জিতেছে পাঁচটিতে। অন্য দিকে, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পলানীস্বামীর দল এডিএমকে ৪৭ এবং তার সহযোগী বিজেপি একটিতে জিতেছে। তাদের আর এক সহযোগী পিএমকে পেয়েছে চারটি।
বৃহস্পতিবার রাজ্যের গভর্নর আর ভি আরলেকার সঙ্গে দ্বিতীয় বারের মতো দেখা করেন থালাপতি। এসময় থালাপতি বিজয়ের সরকার গঠনের প্রস্তাব খারিজ করে দেন তিনি। স্পষ্ট বলে দেন, টিভিকেকে সরকার গঠন করতে হলে ১১৮ বিধায়কের সমর্থন নিশ্চিত করে একটি চিঠি তাকে দেখাতে হবে। রাজ্যপালের এমন অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে টিভিকে। সংখ্যালঘু সরকার গঠনের জন্য রাজ্যপালকে রাজি করাতে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার ইঙ্গিতও দিচ্ছে দলটি।
এই পরিস্থিতিতে বিজয় হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, রাজ্যপাল যদি একক বৃহত্তম দল টিভিকে-কে সুযোগ না দেন, তবে তাদের ১০৭ জন বিধায়ক পদত্যাগ করবেন।
এদিকে এসব রাজনৈতিক নাটকীয়তার মধ্যে মধ্যে বিজয়ের দলের ১০৭ জন নতুন বিধায়ককে রাজধানী চেন্নাই থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরের মন্দিরনগরী মামাল্লাপুরামের একটি অবকাশযাপনকেন্দ্রে রাখা হয়েছে। এর লক্ষ্য হলো তারা যেন অন্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যোগাযোগ না করতে পারেন।