আসন্ন নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির পর টানা ১৫ বছরের শাসনের অবসান হয়েছে। এ নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও চলছে আলোচনা। ফলাফলের পরও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগ করবেন না বলে জানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সিদ্ধান্তেই অনড় রয়েছেন তিনি।
গতকাল মঙ্গলবার কালীঘাটে দলের সদ্য নির্বাচিত বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠকে এমনই মন্তব্য করেন তিনি।
বৈঠকে মমতা বলেন, ‘আমরা হারিনি, আমাদের জোর করে হারানো হয়েছে। এখনো বিরোধী দলনেতা ঠিক হয়নি। আগে বিধানসভা গঠন করুক ওরা।’
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘আমাকে মেরেছে, ববিকেও মেরেছে। আমাদের এখানে হারানো হলেও দিল্লি আমাদের পরবর্তী লক্ষ্য। গোটা ইন্ডিয়া আমাদের টিম একসঙ্গে লড়াই করবে।’
মমতার বক্তব্যে আরও উঠে আসে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা। তিনি বলেন, ‘আমি মানুষকে বিশ্বাস করি। জ্ঞানেশ কুমার আসল ভিলেন। এই পরিস্থিতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত আছেন প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। আমার আজ হাসি পাচ্ছে। নৈতিকভাবে আমি ওদের হারিয়ে দিয়েছি। চারদিকে কী হচ্ছে দেখছেন?’
তিনি আরও দাবি করেন, ‘নেতাজি-গান্ধীজীকে গেরুয়া আবির মাখানো হচ্ছে।’
এদিকে নির্বাচনের পর তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরে অস্থিরতা ও বিদ্রোহের সুর শোনা যাচ্ছে। একাধিক নেতা প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, দলের শীর্ষ নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
সূত্র অনুযায়ী, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও কাঠগড়ায় তোলা হচ্ছে।
দলের শৃঙ্খলা রক্ষায় নতুন একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানা গেছে। কমিটিতে রয়েছেন ডেরেক ও’ব্রায়েন, ফিরহাদ হাকিম, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, অসীমা পাত্র ও শুভাশিস দাস। দলবিরোধী অবস্থানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব থাকবে এই কমিটির ওপর।
শেষে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, ‘আমি গিয়ে পদত্যাগ করব না। রাষ্ট্রপতি শাসন হলে হোক। রেকর্ড থাকুক। ওরা আমাকে বরখাস্ত করুক। আমি চাই সেই দিনটি একটি কালো দিন হিসেবে চিহ্নিত হোক