বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৫৮ অপরাহ্ন

হঠাৎ ব্লাড প্রেশার ওঠানামা করলে কী করণীয়

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬

রক্তচাপ বা ব্লাড প্রেশার হঠাৎ অস্বাভাবিক হয়ে যাওয়া একটি জরুরি স্বাস্থ্য সংকট। উচ্চ রক্তচাপ থেকে যেমন স্ট্রোক বা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি থাকে, তেমনি রক্তচাপ অতিরিক্ত কমে গেলে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ অকেজো হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়।

১. হঠাৎ ব্লাড প্রেশার বেড়ে গেলে (উচ্চ রক্তচাপ)
যদি কারো রক্তচাপ হঠাৎ ১৮০/১২০ mmHg বা তার বেশি হয়ে যায়, তাকে ‘হাইপারটেনসিভ ক্রাইসিস’ বলা হয়।

তৎক্ষণাৎ করণীয়:

বিশ্রাম: রোগীকে কথা বলা বন্ধ করে অন্ধকার ও শান্ত ঘরে স্থির হয়ে শুয়ে থাকতে বলুন। শরীরকে শিথিল (Relax) করার চেষ্টা করতে হবে।

গভীর শ্বাস: রোগীকে নাক দিয়ে দীর্ঘ শ্বাস নিয়ে মুখ দিয়ে ধীরে ধীরে ছাড়তে বলুন। এটি স্নায়ু পদ্ধতিকে শান্ত করে রক্তচাপ কিছুটা কমাতে সাহায্য করে।

লবণ পরিহার: ভুল করেও এই অবস্থায় রোগীকে নুন-জল বা লবণাক্ত কিছু খাওয়াবেন না।

ওষুধ: রোগী যদি আগে থেকেই উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ খেয়ে থাকেন, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী জরুরি ডোজটি দেওয়া যেতে পারে। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নতুন কোনো ওষুধ দেবেন না।

কখন হাসপাতালে যাবেন: যদি মাথা ঘোরা, তীব্র মাথাব্যথা, বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট বা কথা জড়িয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দেয়, তবে কালক্ষেপণ না করে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে।

২. হঠাৎ ব্লাড প্রেশার কমে গেলে (নিম্ন রক্তচাপ)
শরীরে রক্ত সঞ্চালন কমে গেলে মাথা ঘুরে পড়ে যাওয়া বা অজ্ঞান হওয়ার মতো ঘটনা ঘটতে পারে।

তৎক্ষণাৎ করণীয়:

পা উঁচু করে শোয়ানো: রোগীকে সমতল স্থানে শুইয়ে দিন এবং পায়ের নিচে বালিশ দিয়ে পা দুটি হৃদপিণ্ডের উচ্চতা থেকে কিছুটা উপরে রাখুন। এতে মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায়।

লবণ-জল: এক গ্লাস পানিতে আধা চা-চামচ লবণ মিশিয়ে খাওয়ান। সোডিয়াম দ্রুত রক্তচাপ বাড়াতে সাহায্য করে।

কফি বা চা: ক্যাফেইন সমৃদ্ধ পানীয় যেমন কড়া কফি বা চা সাময়িকভাবে রক্তচাপ বাড়াতে বেশ কার্যকর।

গ্লুকোজ বা ডাবের পানি: পানিশূন্যতার কারণে প্রেশার কমলে গ্লুকোজ বা ডাবের পানি দেওয়া যেতে পারে।

ভারী খাবার: প্রেশার খুব কমে গেলে রোগীকে কিছুটা নোনতা বিস্কুট বা খাবার দেওয়া যেতে পারে।

ব্লাড প্রেশার নিয়ন্ত্রণে কিছু সাধারণ পরামর্শ
পোর্টালে পাঠকদের সচেতনতায় নিচের পয়েন্টগুলো যুক্ত করা যেতে পারে:

১. নিয়মিত পরীক্ষা: উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের অন্তত সপ্তাহে একবার প্রেশার মাপা উচিত।

২. লবণ নিয়ন্ত্রণ: পাতে কাঁচা লবণ খাওয়ার অভ্যাস পুরোপুরি ত্যাগ করুন।

৩. ওজন নিয়ন্ত্রণ: অতিরিক্ত ওজন রক্তচাপের প্রধান শত্রু।

৪. মানসিক প্রশান্তি: দুশ্চিন্তা ও পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব রক্তচাপের ভারসাম্য নষ্ট করে।

উপরোক্ত পদক্ষেপগুলো কেবল সাময়িক আরামের জন্য। রক্তচাপ অস্বাভাবিকভাবে ওঠানামা করলে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে স্থায়ী সমাধানের পথ খুঁজতে হবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102