আধুনিক জীবনযাপন এবং অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাসের কারণে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যাওয়া বা ডায়াবেটিস এখন ঘরে ঘরে। জীবনভর ওষুধ বা ইনসুলিনের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে শুরু থেকেই সচেতন হলে এটি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রান্নাঘরের বেশ কিছু উপাদান এবং প্রতিদিনের সাধারণ কিছু অভ্যাস ডায়াবেটিস ব্যবস্থাপনায় দারুণ ভূমিকা রাখে।
আসুন জেনে নিই রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখার কার্যকরী কিছু ঘরোয়া টিপস:
১. মেথি দানার জাদুকরী গুণ
মেথিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার, যা হজম প্রক্রিয়া ধীর করে দেয় এবং রক্তে চিনির শোষণ কমায়।
ব্যবহার: এক গ্লাস পানিতে এক চামচ মেথি দানা সারারাত ভিজিয়ে রাখুন। সকালে খালি পেটে এই পানি পান করলে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে।
২. দারুচিনির ব্যবহার
দারুচিনি ইনসুলিনের সংবেদনশীলতা বাড়াতে সাহায্য করে। এটি শরীরের কোষগুলোকে গ্লুকোজ ব্যবহারে উৎসাহিত করে।
ব্যবহার: প্রতিদিনের চা কিংবা ওটমিলের সাথে এক চিমটি দারুচিনি গুঁড়ো মিশিয়ে নিতে পারেন। তবে দিনে ২ গ্রামের বেশি না খাওয়াই ভালো।
৩. করলার রস
স্বাদে তেতো হলেও করলা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এতে থাকা পলি-পেপটাইড-পি রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত কমাতে সাহায্য করে।
ব্যবহার: সকালে খালি পেটে আধ কাপ করলার রস পান করা যেতে পারে। যারা রস খেতে পারেন না, তারা রান্নায় নিয়মিত করলা রাখতে পারেন।
৪. পর্যাপ্ত পানি ও সঠিক ঘুম
শরীরে পানির অভাব হলে লিভার থেকে অতিরিক্ত শর্করা নির্গত হয়। পর্যাপ্ত পানি পান করলে প্রস্রাবের মাধ্যমে বাড়তি শর্করা শরীর থেকে বেরিয়ে যায়। পাশাপাশি প্রতিদিন ৭-৮ ঘণ্টা গভীর ঘুম শরীরের হরমোনাল ভারসাম্য বজায় রাখে, যা রক্তে চিনি নিয়ন্ত্রণে জরুরি।
৫. হাঁটাহাঁটির অভ্যাস
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে কার্যকর ‘ঘরোয়া’ উপায় হলো শারীরিক পরিশ্রম। প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট দ্রুত হাঁটার অভ্যাস করুন। এতে পেশিগুলো রক্ত থেকে চিনি ব্যবহার করে শক্তি তৈরি করে, ফলে শরীরে শর্করার মাত্রা কমে।
এই ঘরোয়া উপায়গুলো জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে সাহায্য করে। তবে ডায়াবেটিসের মাত্রা যদি অনেক বেশি হয় বা আপনি যদি নিয়মিত কোনো ওষুধ সেবন করেন, তবে যেকোনো ঘরোয়া প্রতিকার শুরু করার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।