ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে ব্যয়ের বড় অংশ মেগা প্রকল্পে ব্যয় হওয়ায় জনগণ বিনিয়োগের প্রকৃত সুফল পায়নি বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, গত ১৬ বছরে ফ্যাসিবাদী সরকারের সময়ে লাগামহীন দুর্নীতির কারণে দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে প্রায় ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তার দাবি, অর্থ পাচার ও অনিয়মের কারণে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ২০ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে।
তিনি আরও বলেন, ওই সময়ে রাজস্ব আয়ের তুলনায় ব্যয় বেশি হওয়ায় বাজেটে বড় ঘাটতি তৈরি হয়। ব্যয়ের বড় অংশ ছিল মেগা প্রকল্পে, যার কারণে সাধারণ জনগণ প্রত্যাশিত সুফল থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
আমির খসরু বলেন, গত ১৫ বছরে টাকার মান প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে, ফলে আমদানি ব্যয় বেড়ে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে গেছে।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার ১০ দিনের মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হয়, যার কারণে জ্বালানি তেল ও এলএনজির দাম দ্বিগুণ হয়ে যায়। তবুও জনগণের স্বার্থে সরকার ভর্তুকি দিয়ে তেলের দাম স্থিতিশীল রেখেছে।
অর্থমন্ত্রী জানান, সরকার ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্যে কাজ করছে এবং প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে প্রস্তুত রয়েছে।
এদিকে সংসদের ১২তম দিনের অধিবেশনে মোট ৩১টি বিল পাস হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা এসব বিল উত্থাপন করেন।
পাস হওয়া বিলগুলোর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন সংশোধনী ও নতুন আইন, যেমন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ, শ্রম আইন, স্থানীয় সরকার আইন, গ্যাস আইন, টেলিযোগাযোগ আইনসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ খাত সংশ্লিষ্ট বিধান।
এছাড়া কিছু অধ্যাদেশ রহিত ও পুনঃপ্রচলনের মাধ্যমে আইনগত কাঠামো পুনর্বিন্যাস করা হয়, যার মধ্যে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় এবং মানবাধিকার কমিশন সংক্রান্ত বিধান উল্লেখযোগ্য।
সরকারি ভাষ্য অনুযায়ী, এসব আইন ও সংস্কার দেশের প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক কাঠামো আরও শক্তিশালী করতে সহায়তা করবে।