রবিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:০৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
আশীর্বাদ ও হুমকির দোলাচলে ভবিষ্যৎ; এআই কি তবে মানুষের মগজ গিলে খাচ্ছে? তীব্র তাপদাহে ১৫ জেলায় জনজীবন দুর্বিষহ ইরানে নিখোঁজ থাকা ক্রুকে উদ্ধার করল মার্কিন স্পেশাল ফোর্স ইরান থেকে ‘নাটকীয়ভাবে’ বের হলো মার্কিন পাইলট উদ্ধারকারী দল ইসলামে দান পরকালীন সওয়াব ও ইহকালীন সমৃদ্ধির সেতুবন্ধন ট্রাম্পের ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান রমজানের বাদ পড়া রোজা আদায়ের নিয়ম : জানুন ইসলামের বিধান পে-স্কেল ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অর্থমন্ত্রীর বৈঠক আজ যুক্তরাষ্ট্রে কাসেম সোলেমানির স্বজনদের গ্রেপ্তার সারা দেশে হামের টিকা দেওয়ার তারিখ জানালেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

মাস্টার্স পাস মাহবুবের বরই চাষে সফলতা

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬

বিভিন্ন ফসলের পাশাপাশি উচ্চমূল্যের অধিক লাভজনক ফলচাষ বাড়ছে যশোরের শার্শা ও বেনাপোল এলাকায়। পুষ্টিগুণে ভরা রসালো ফল বরই চাষ করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন উদ্যোক্তারা। বাড়ছে কর্মসংস্থান, তৈরি হচ্ছে নতুন উদ্যোক্তা এবং লাভের মুখ দেখছেন চাষিরা। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) উদ্ভাবিত আপেল কুল, বাউকুল, থাইকুল ও ঢাকা-৯০ কুলসহ বিভিন্ন জাতের বরই চাষ করছেন তারা।

মাত্র চার থেকে ছয় মাসেই ফলন পাওয়ায় কোটি টাকার স্বপ্ন দেখছেন উদ্যোক্তারা। আধুনিক পদ্ধতিতে বরই চাষ সম্প্রসারণ, নতুন জাত উদ্ভাবন এবং সরকারি সহযোগিতা কামনা করেছেন স্থানীয় চাষিরা।

যশোরের শার্শা উপজেলার জামতলার বাসিন্দা মাহবুবুর রহমান। মাস্টার্স শেষ করে একসময় হতাশায় ভুগছিলেন। উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে পাঁচ বছর আগে পাঁচ বিঘা জমিতে থাই, বল, আপেল ও নাসরিন জাতের বরই চাষ শুরু করেন। আট মাসের মধ্যেই ফলন আসে, যা প্রায় ১০ বছর পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। প্রতি বিঘায় প্রায় দুই লাখ টাকা খরচে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় সম্ভব। অল্প সময়ে কম খরচে ভালো লাভ হওয়ায় বর্তমানে তিনি প্রায় ৩০ বিঘা জমিতে বরই চাষ করছেন। তার বাগানে অর্ধশতাধিক শ্রমিকের কর্মসংস্থান হয়েছে।

যশোরের বিভিন্ন এলাকায় সুমিষ্ট ও পুষ্টিকর বরই চাষ বাড়ছে। এ চাষে যুক্ত শ্রমিকরা প্রতিদিন প্রায় ৫০০ টাকা মজুরি পেয়ে মাসে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করছেন। এতে তাদের পরিবারে স্বচ্ছলতা ফিরেছে বলে জানান শ্রমিক রাকীব আহম্মেদ ও কৃষক উমর হোসেন।

স্থানীয়দের মতে, বরই চাষ লাভজনক হওয়ায় আগামীতে এর পরিধি আরও বাড়বে।

বরই ব্যবসায়ী আতিয়ার রহমান জানান, যশোরের বিভিন্ন এলাকা থেকে ৬০ থেকে ১১০ টাকা কেজি দরে বরই কিনে দেশের বিভিন্ন বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে। চাহিদা বাড়ায় চাষি ও ব্যবসায়ী উভয়েই লাভবান হচ্ছেন।

কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, শার্শা উপজেলার প্রায় সর্বত্রই বরই চাষ হলেও বেনাপোল, বাগআঁচড়া, উলাশি, শার্শা ও কায়বা ইউনিয়নে এর ব্যাপকতা বেশি। চার থেকে ছয় মাসের মধ্যে ফলন ঘরে ওঠে। অক্টোবরের শেষ থেকে বরই সংগ্রহ শুরু হয়ে এপ্রিলের মাঝামাঝি পর্যন্ত চলে।

শার্শার পিঁপড়াগাছি গ্রামের কৃষক মাহবুবুর রহমান (৪৫) বরই চাষের মাধ্যমে নিজের জীবন-জীবিকার উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন ঘটিয়েছেন, যা অন্যদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে। অল্প পুঁজি দিয়ে শুরু করে তিনি এখন একাধিক বরই বাগানের মালিক। তার বাগানে বাউকুল, আপেলকুল ও নারিকেল কুলের ভারে গাছগুলো নুয়ে পড়েছে।

মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘অনেকে পড়াশোনা শেষে চাকরির পেছনে ছুটে, কিন্তু আমি কৃষি উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে বরই চাষ শুরু করি। প্রথম বছরেই দ্বিগুণ লাভ পাই। এরপর ধীরে ধীরে বাগান বাড়িয়ে এখন ৩০-৩৫ বিঘা জমিতে চাষ করছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার বাগানে ৪০ থেকে ৫০ জন শ্রমিক কাজ করেন। এতে আমার পাশাপাশি তাদেরও আর্থিক উন্নতি হচ্ছে।’

শার্শা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দীপক কুমার সাহা জানান, অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এ বছর বরইয়ের ভালো ফলন হয়েছে। কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন। কৃষি অধিদপ্তর থেকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে এ উপজেলায় বরই চাষ আরও বাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102