সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলায় গম চাষে বদলে যাচ্ছে কৃষকের ভাগ্য। কম খরচে অধিক লাভ এবং অনুকূল আবহাওয়ার কারণে দিন দিন গম চাষের দিকে ঝুঁকছেন সাধারণ কৃষকেরা। এতে করে অনেক কৃষকের পরিবারে ফিরে এসেছে স্বচ্ছলতা।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, ধানের পাশাপাশি গম চাষ এখন কৃষকদের কাছে লাভজনক বিকল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। পূর্বে অনাবাদি বা কম ব্যবহৃত জমিতেও এখন গমের আবাদ হচ্ছে। ফলে জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি কৃষকের আয়ও বেড়েছে।
উপজেলার সবচেয়ে বড় চান্দাইকোনা ও সলঙ্গা হাট ঘুরে দেখা যায়, প্রতি হাটে প্রচুর পরিমাণে ধান ও গম বেচাকেনা হয় এবং ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকেরা অনেক আনন্দিত।
চান্দাইকোনা ইউনিয়নের কৃষক মো. সোহাগ সরকার বলেন, ধান চাষ করে তেমন লাভ হয় না। এখন গম চাষ করে ভালো আয় হচ্ছে এবং সংসারে স্বচ্ছলতা ফিরে এসেছে। তিনি আরও জানান, গম চাষে সেচ ও সার কম লাগে, রোগবালাইও তুলনামূলক কম। ফলে উৎপাদন খরচ কম হওয়ায় লাভ অনেক বেশি থাকে।
নলকা ইউনিয়নের কুমাজপুর গ্রামের কৃষক মো. শাহজাহান আলী বলেন, গম চাষে ঝুঁকি কম, ফলনও ভালো হয়। বাজারে দামও সন্তোষজনক। তাই প্রতি বছর গমের আবাদ বাড়াচ্ছি। এ বছর আমি ১ বিঘা জমিতে গম চাষ করে বিঘা প্রতি ৮ থেকে ১০ মণ হারে ফলন পেয়েছি।
রায়গঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মমিনুল ইসলাম বলেন, চলতি মৌসুমে রায়গঞ্জে গম চাষের পরিমাণ ৮৫ হেক্টর, যা গত বছরের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। উন্নত জাতের বীজ, সঠিক পরিচর্যা এবং কৃষি বিভাগের পরামর্শে ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকেরা উৎসাহিত হচ্ছেন। রায়গঞ্জের মাটি ও জলবায়ু গম চাষের জন্য উপযোগী। আমরা কৃষকদের আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদে উদ্বুদ্ধ করছি। এতে তারা কম খরচে বেশি উৎপাদন করতে পারছেন।
স্থানীয় হাট-বাজারে গমের চাহিদা থাকায় কৃষকেরা ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন, যা তাদের আগ্রহ আরও বাড়াচ্ছে। অনেক কৃষকই এখন গম চাষকে প্রধান আয়ের উৎস হিসেবে গ্রহণ করছেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি প্রণোদনা ও কৃষি প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার অব্যাহত থাকলে রায়গঞ্জে গম চাষ আরও বিস্তৃত হবে এবং কৃষকের অর্থনৈতিক অবস্থার টেকসই উন্নয়ন ঘটবে।