ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সামরিক উত্তেজনা যত দীর্ঘ হচ্ছে, ততই এর রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে দেশটিতে আলোচনা বাড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের লক্ষ্য ও কৌশল নিয়ে অনিশ্চয়তা, হরমুজ প্রণালি ঘিরে সংকট এবং জ্বালানির দাম বাড়ার আশঙ্কা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বড় চাপ তৈরি করতে পারে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কেন্টাকি অঙ্গরাজ্যের হেবরন শহরে এক সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে জয়ী হয়েছে। তার ভাষায়, যুদ্ধের ‘প্রথম ঘণ্টাতেই’ যুক্তরাষ্ট্র বিজয় নিশ্চিত করেছে।
তিনি সামরিক অভিযানের নাম ‘এপিক ফিউরি’ রাখার বিষয়টিও উল্লেখ করেন এবং এটিকে শক্তিশালী ও স্মরণীয় নাম বলে মন্তব্য করেন। তবে সমাবেশে উপস্থিত জনতার প্রতিক্রিয়া তুলনামূলকভাবে নীরব ছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাধারণত যুদ্ধ পরিস্থিতিতে দেশপ্রেমের আবেগে জনগণ সরকারের প্রতি সমর্থন দেখায়। কিন্তু ইরানকে ঘিরে বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই উচ্ছ্বাস ততটা স্পষ্ট নয়। কারণ যুদ্ধের স্পষ্ট লক্ষ্য বা দীর্ঘমেয়াদি কৌশল নিয়ে এখনো পরিষ্কার ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
বর্তমানে ইরানের সরকার ক্ষমতায় রয়েছে এবং দেশটি গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালির ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ধরে রেখেছে। বিশ্বের মোট তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে সেখানে উত্তেজনা বাড়লে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালি অত্যন্ত সংকীর্ণ হওয়ায় সামান্য নৌযান থেকেও সমুদ্র মাইন ফেলে এই পথের চলাচল ব্যাহত করা সম্ভব। ধারণা করা হয়, ইরানের কাছে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সমুদ্র মাইন রয়েছে, যা ব্যবহৃত হলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটতে পারে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পেলে তার রাজনৈতিক প্রভাবও পড়তে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। এতে ট্রাম্পের প্রশাসনের যুদ্ধ-সংক্রান্ত সাফল্যের দাবিও অনেকের কাছে প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন সময়ে এই সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তা যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের সমীকরণেও প্রভাব ফেলতে পারে।