আক্রান্ত হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি থেকে দেশটির স্বার্থসংশ্লিষ্ট সব লক্ষ্যবস্তুতে লাগাতার হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। এ অবস্থায় ইরানের সামরিক সক্ষমতা ক্রমাগত হ্রাস পাচ্ছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) আমেরিকান সংবাদমাধ্যম পলিটিকোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ দাবি করেন তিনি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার এবং ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার উপযুক্ত স্থান ফুরিয়ে আসছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) প্রধান জেনারেল কুপারও ট্রাম্পের মতো একই দাবি করেছেন। তার মতে, ইরানের পাল্টা আঘাত হানার সক্ষমতা ক্রমে হ্রাস পাচ্ছে। তার দাবি, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও লঞ্চার লক্ষ্য করে নিয়মিত হামলার ফলে দেশটির এই সক্ষমতা কমে আসছে।
কুপার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার প্রতিশোধ নিতে ইরান এখন পর্যন্ত ৫০০টির বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং দুই হাজারের বেশি ড্রোন ছুড়েছে। তবে বর্তমানে ইরান তাদের উৎক্ষেপণ সক্ষমতা নিয়ে বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়েছে।
মঙ্গলবার ইসরায়েলি সেনাবাহিনী (আইডিএফ) দাবি করেছে, ইরানে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে প্রায় ৩০০টি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার ধ্বংস করা হয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে অস্ত্রের অফুরন্ত মজুত রয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তার দাবি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে মাঝারি ও উচ্চ মাঝারি পর্যায়ের অফুরন্ত গোলাবারুদ রয়েছে। তিনি বলেছেন, আমরা এগুলো সংরক্ষণ করি এবং তৈরি করি।
তবে সামরিক সক্ষমতা কমে যাওয়া নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি উড়িয়ে দিয়েছে ইরান। দেশটি জানাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের প্রস্তুতি রয়েছে তাদের।
দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, তারা এখনো তাদের সবচেয়ে উন্নত অস্ত্রগুলো ব্যবহার করেনি।
মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রেজা তালাই-নিক বলেছেন, চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধে দীর্ঘ সময় ধরে প্রতিরোধ গড়ার ও আক্রমণাত্মক প্রতিরক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা আমাদের আছে। যুদ্ধের প্রথম দিনগুলোতেই আমরা আমাদের সমস্ত উন্নত অস্ত্র ও সরঞ্জাম ব্যবহার করি না।