দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলায় চাঞ্চল্যকর শিশু সামস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তার আপন চাচাতো ভাইকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার রাতের দিকে উপজেলার কুশদহ ইউনিয়নের আমরুলবাড়ী ডাঙাপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত শিশু সিরাজুল আল সামস (৭)। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে তার আপন চাচাতো ভাই আমানুল ইসলাম আমানকে আটক করা হয়।
জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আমান হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আনোয়ার হোসেন জানান, গ্রেপ্তারকৃত আমানুল ইসলাম আমানকে আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় নেওয়া হয়েছে এবং তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
পুলিশের তথ্যমতে, চাচির প্রতি দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও চাচার সম্পত্তির লোভ থেকে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জিজ্ঞাসাবাদে আমান দাবি করেছে, পরিবারের প্রতি ঈর্ষা ও ব্যক্তিগত বিদ্বেষ থেকেই সে এ অপরাধে জড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার দিন রাতে একটি পাঞ্জাবি সেলাইয়ের কথা বলে আমান চাচির বাড়িতে যায় এবং কৌশলে সামসকে বাইরে ডেকে নেয়।
পরে পাশের একটি মাদ্রাসার কক্ষে নিয়ে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করে। এরপর মরদেহ বাড়ির পাশের একটি ভুট্টাক্ষেতে ফেলে রেখে যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পরবর্তীতে সামসের মা তাকে খুঁজতে গিয়ে আমানের কাছে জানতে চাইলে সে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেয়। পরে এলাকাবাসীর সহায়তায় খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে ভুট্টাক্ষেত থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারের পর তাকে দ্রুত ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর পুলিশ ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ ঘটনায় এলাকায় শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।