মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০১:৩২ পূর্বাহ্ন

উদ্বোধনের আগেই দেবে গেল ২৬ কোটি টাকার সড়ক

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের কাশিমপুর এলাকায় একটি সড়ক উদ্বোধনের আগেই কয়েক ফুট দেবে গেছে। সঠিক পরিকল্পনা, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার ও কাজে অনিয়ম-দুর্নীতি এবং নগর কর্তৃপক্ষের সঠিক তদারকির অভাবেই এমন ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই রাস্তার একটি অংশ ভেঙে কয়েক ফুট নিচে দেবে যাওয়ায় এলাকার মানুষের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কয়েকদিন আগে দ্রুতগতিতে রাস্তার ঢালাই কাজ শেষ করা হয়। ঢালাইয়ের তিন দিনের মাথায় রাস্তার একটি অংশে ফাটল দেখা দেয়। পরে সেই অংশ ভেঙে কয়েক ফুট নিচে দেবে যায়। বর্তমানে সড়কের বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় ফাটল দেখা গেছে, যা পুরো সড়ককেই ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।

সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের কাশিমপুরের ধনঞ্জয়খালী এলাকায় তুরাগ নদের পশ্চিম তীরে বিটুমিনাস কার্পেটিংয়ের মাধ্যমে সড়ক উন্নয়নকাজ বাস্তবায়নে দুটি প্যাকেজের আওতায় প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। কাজটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড কমার্সিয়াল সেন্টার লিমিটেডকে (ইউসিসিএল)।

প্যাকেজ-১২ এর অধীনে ১ হাজার ১৫০ মিটার সড়ক নির্মাণের জন্য প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছিল ১০ কোটি ৮০ লাখ টাকা। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয় ১১ কোটি ৬৪ লাখ ৪১ হাজার ৫৭১ টাকায়, যা প্রাক্কলিত ব্যয়ের চেয়ে বেশি।

অন্যদিকে প্যাকেজ নম্বর ৫-এর আওতায় ১২ হাজার ৪৬ মিটার সড়ক নির্মাণে প্রাক্কলিত ব্যয় ছিল ১৩ কোটি ১৯ লাখ ২১ হাজার টাকা। কিন্তু কার্যাদেশ দেওয়া হয় ১৪ কোটি ২৮ লাখ ১১ হাজার ৪৫৯ টাকায়।

দুটি প্যাকেজের আওতায় মোট ২৫০ মিটার ডব্লিউবিএম, ৬০ মিলিমিটার কার্পেটিং, প্রায় ১ দশমিক ৮ মিটার ফুটপাত, রেলিং, গার্ডওয়ালসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণের কথা ছিল।

কিন্তু স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজের মান অত্যন্ত নিম্নমানের এবং নির্ধারিত পরিমাণ উপকরণ ব্যবহার করা হয়নি। রাস্তার কাজ তদারকি করে সিটি করপোরেশনের প্রকৌশল বিভাগ। এ কাজে তাদেরও চরম গাফিলতি রয়েছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন।

এ বিষয়ে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক এ কে এম হারুনুর রশীদ জানান, সড়ক ধসের কারণ অনুসন্ধানে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। কমিটির প্রধান হিসেবে ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক থাকবেন। নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের কোনো গাফিলতি বা অনিয়ম ছিল কি না, তা তদন্তে বেরিয়ে আসবে। দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয়দের দাবি, তদন্ত কমিটি গঠনের মাধ্যমে দায় এড়ানো নয়, বরং দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে। তারা নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, তড়িঘড়ি কাজ শেষ করা এবং অতিরিক্ত ব্যয়ে কার্যাদেশ দেওয়ার বিষয়েও তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102