উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ নিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিএনপি থেকে ১১ প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী ঋণখেলাপিরা নির্বাচনে অযোগ্য হলেও আইনি ফাঁকফোকর ও স্থগিতাদেশের সুযোগ নিয়ে তারা এই বিজয় অর্জন করেন।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, বিজয়ী এই ১১ জনের মধ্যে চট্টগ্রামের দুটি আসনের (চট্টগ্রাম-২ ও ৪) প্রার্থীদের খেলাপি ঋণ-সংক্রান্ত মামলা নিষ্পত্তি না হওয়ায় তাদের আনুষ্ঠানিক ফলাফল এখনো প্রকাশ করা হয়নি। ফলে আগামীকাল অনুষ্ঠিতব্য নতুন সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠানে তারা আমন্ত্রণ পাননি।
বিশ্লেষকদের মতে, সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পরও যদি ঋণখেলাপি হওয়ার প্রমাণ থাকে, তবে আরপিও অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন তাদের পদ বাতিল করতে পারে। বর্তমান আইন অনুযায়ী, আদালতের স্থগিতাদেশ উঠে গেলে এই ১১ এমপি তাদের সদস্যপদ হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রভাবশালী ঋণখেলাপিদের আইনের ফাঁক গলে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া রাষ্ট্র সংস্কারের প্রত্যাশার পরিপন্থি। বাংলাদেশ ব্যাংক আশা করছে, এই সংসদ সদস্যরা দ্রুত ঋণ পরিশোধ বা পুনঃতপশিলের মাধ্যমে নিয়মিত হয়ে আইনি জটিলতা নিরসন করবেন।
বিজয়ী ১১ ঋণখেলাপি সংসদ সদস্যের মধ্যে রয়েছেন মামলার কারণে ফলাফল স্থগিত হওয়া চট্টগ্রাম-২ সরোয়ার আলমগীর ও চট্টগ্রাম-৪ মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরী। এ ছাড়া চট্টগ্রাম-৬ গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, কুমিল্লা-১০ মো. মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া, কুমিল্লা-৯ মো. আবুল কালাম, বগুড়া-১ কাজী রফিকুল ইসলাম, বগুড়া-৫ গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ, টাঙ্গাইল-৪ মো. লুৎফর রহমান, ময়মনসিংহ-৫, মোহাম্মদ জাকির হোসেন, মৌলভীবাজার-৪ মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী, সিলেট-১ খন্দকার আবদুল মুক্তাদির।
সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বিষয়টিকে গভীর উদ্বেগের সঙ্গে দেখে বলেছেন, এর মাধ্যমে জয়-পরাজয়ের সমীকরণ বদলে গেছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক আশা করছে, এই সংসদ সদস্যরা দ্রুত ঋণ পরিশোধ বা পুনঃতপশিলের মাধ্যমে নিয়মিত হয়ে আইনি জটিলতা নিরসন করবেন।