আজ ঢাকা মহানগরীতে সিএনজি ও এলপিজি পাম্পগুলোতে তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। সরবরাহ কমে যাওয়ায় অধিকাংশ পাম্প পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। দু-একটি পাম্প গ্যাস সরবরাহ করলেও অপর্যাপ্ততার কারণে দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়েছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও কেউ গ্যাস পাচ্ছেন না। এতে পরিবহন খাতে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে এবং জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, ভোর থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, মাইক্রো, প্রাইভেটকার চালকরা পাম্পের সামনে লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। কিন্তু মিলছে না গ্যাস।
বনানী এলাকার এক মাইক্রোচালক মো. সেলিম রেজা বলেন, ‘ভোর ৬টা থেকে বিভিন্ন পাম্পে ঘুরেছি। এখন সকাল ৯টা বাজে, তবুও গ্যাস পাইনি। তিন-চার ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে ব্যর্থ হয়ে মহাখালীর দিকে যাচ্ছি যদি কোনো পাম্প পাই। না পেলে গাড়ি বন্ধ করে বসে থাকতে হবে।’
মগবাজার এলাকায় এক সিএনজি অটোরিকশাচালক বলেন, এভাবে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যদি পাম্পে ঘুরতেই কেটে যায়, তাহলে আয় করব কখন? সংসার চালানোই কঠিন হয়ে যাচ্ছে।
একই চিত্র দেখা গেছে মোহাম্মদপুর ও যাত্রাবাড়ী এলাকাতেও। এলপিজিচালিত প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাসের চালকরাও পড়েছেন বিপাকে।
প্রাইভেটকার চালক মো. রোকন বলেন, ‘গ্যাস পাচ্ছি না সকাল থেকেই। পাম্পগুলোতে সিরিয়াল দিয়েও গ্যাস পাইনি। এখন কি করব, জানি না।’
ডিলারদের দাবি, জাতীয় গ্রিড থেকে গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ায় তারা পর্যাপ্ত চাপ পাচ্ছেন না। পাশাপাশি কিছু পাম্পে টেকনিক্যাল সমস্যাও রয়েছে, যা দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন তারা। তবে কখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেননি সংশ্লিষ্টরা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গ্যাস সংকটের প্রভাব শুধু পরিবহন খাতেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি যাত্রীর জীবনযাত্রায়ও প্রভাব ফেলছে। পর্যাপ্ত গণপরিবহন না থাকায় অনেকেই অফিস ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সময়মতো পৌঁছাতে পারছেন না।