ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ীদের মধ্যে ২৩৬ জন কোটিপতি ও ১৩ জন শত কোটিপতি রয়েছেন বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রক্রিয়া ও হলফনামাভিত্তিক পর্যবেক্ষণ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।
প্রতিবেদনে নির্বাচনে বিজয়ী প্রার্থীদের গড় বয়স ৫৯ বছর বলেও জানিয়েছে টিআইবি।
সংস্থাটি বলছে, এবার এমপিদের বয়সভিত্তিক হার হলো ২৫ থেকে ৩৪ বছর বয়সী ৩ দশমিক ৩ শতাংশ, ৩৫ থেকে ৪৪ বছর বয়সী ৬ দশমিক ৭৩ শতাংশ, ৪৫ থেকে ৫৪ বছর বয়সী ১৮ দশমিক ৮৬ শতাংশ, ৫৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সী ৩৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ এবং ৬৫ বছরের বেশি বয়সী ৩৬ দশমিক ৩ শতাংশ।
প্রতিবেদনে টিআইবি আরও উল্লেখ করেছে, এবার প্রথমবারের মতো এমপি হয়েছেন ২০৯ জন। সম্ভাব্য সংসদ নেতা ও বিরোধী দলীয় নেতা— দুজনই প্রথমবারের মতো সংসদে যাচ্ছেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের নির্দেশে আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত এবং দলটির অঙ্গসংগঠন নিষিদ্ধ করা হলেও জুলাই অভ্যুত্থান এবং বর্তমান সরকারকে অবৈধ আখ্যা দিয়ে তারা নিজেদের অবস্থানে অটল ছিল। প্রাতিষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন প্রতিহত করার ঘোষণা দিলেও তৃণমূল পর্যায়ে দলটির সমর্থকরা ভোটার হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন, যা সাধারণ ভোটারদের ভোট বর্জনের প্রবণতার বিপরীত।
টিআইবির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক নিজেদের পক্ষে টানতে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রভাবশালী দলগুলোর মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা ছিল। বিশেষ করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা এ ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। এর ফলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সাড়া দেন এবং অনেক ক্ষেত্রে তারা সরাসরি অংশগ্রহণকারী দলগুলোতে যোগদান বা তাদের নির্বাচনি প্রচারে সক্রিয় হয়ে ওঠেন।
সংস্থাটির মতে, নির্বাচনকে অবৈধ ঘোষণার পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ে নির্বাচনি পরিবেশে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের এই পরোক্ষ উপস্থিতি দলটির নীতি ও বাস্তবায়নের মধ্যে এক ধরনের পার্থক্য তৈরি করেছে।