বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:১০ পূর্বাহ্ন

মুক্তির পরপরই ভেনেজুয়েলার বিরোধী দলীয় নেতাকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

কারাগার থেকে মুক্তির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ভেনেজুয়েলার বিরোধী রাজনীতিক হুয়ান পাবলো গুয়ানিপাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, এ ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

ভেনেজুয়েলার শীর্ষস্থানীয় বিরোধী নেতা ও কনজারভেটিভ দল প্রিমেরো হুস্তিসিয়ার প্রধান হুয়ান পাবলো গুয়ানিপাকে রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাতের দিকে সশস্ত্র কয়েকজন ব্যক্তি জোর করে ধরে নিয়ে যায় বলে জানিয়েছে তার পরিবার ও রাজনৈতিক মিত্ররা। ঘটনাটি ঘটে তার মুক্তির মাত্র কয়েক ঘণ্টা পর। গত আট মাসের বেশি সময় তিনি রাজনৈতিক বন্দি হিসেবে কারারুদ্ধ ছিলেন।

বিরোধী পক্ষের দাবি, রাজধানী কারাকাসের লোস চোরোস এলাকায় বেসামরিক পোশাকে চারটি গাড়িতে করে আসা সশস্ত্র লোকজন কোনো পরিচয়পত্র না দেখিয়েই গুয়ানিপাকে জোর করে তুলে নিয়ে যায়।

এ বিষয়ে দেশটির নোবেলজয়ী বিরোধী নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, ‘ভারী অস্ত্রধারী লোকেরা এসে তাকে বলপ্রয়োগ করে নিয়ে গেছে।’

গুয়ানিপার ছেলে রামোন একটি ভিডিও বার্তায় দাবি করেন, প্রায় ১০ জন সশস্ত্র এজেন্ট তার বাবাকে ‘অ্যামবুশ’ বা ওত পেতে ধরে নিয়ে যায়। তিনি বলেন, ‘তারা আমাদের দিকে অস্ত্র তাক করেছিল এবং বাবাকে নিয়ে গেছে।’ রামোন তার বাবার জীবিত থাকার প্রমাণ দেখানোর দাবি জানান।

প্রিমেরো হুস্তিসিয়া দল এ ঘটনাকে ‘অপহরণ’ আখ্যা দিয়ে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ, জাতীয় পরিষদের সভাপতি হোর্হে রদ্রিগেস এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিয়োসদাদো কাবেলোকে এর জন্য দায়ী করেছে। দলটির বিবৃতিতে বলা হয়, গুয়ানিপার জীবনের কোনো ক্ষতি হলে দায় সংশ্লিষ্ট শীর্ষ কর্মকর্তাদের ওপর বর্তাবে।

তবে দেশটির পাবলিক প্রসিকিউটর অফিস পরে জানিয়েছে, গুয়ানিপার মুক্তির শর্ত ভঙ্গের অভিযোগে তাকে গৃহবন্দি করার আবেদন করা হয়েছিল। সরকারি বক্তব্যে ‘অপহরণ’-এর অভিযোগ অস্বীকার করা হয়।

এর আগে রোববার রাতে কারাগার থেকে বেরিয়ে গুয়ানিপা একটি ভিডিও পোস্ট করে বলেন, ‘আজ আমরা মুক্তি পাচ্ছি। ভেনেজুয়েলার বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে অনেক কিছু বলার আছে, সত্যকে সামনে রেখেই।’

গুয়ানিপাকে ২০২৫ সালের মে মাসে গ্রেপ্তার করা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিয়োসদাদো কাবেলো কোনো প্রমাণ ছাড়াই অভিযোগ করেছিলেন, তিনি আঞ্চলিক ও আইনসভা নির্বাচনের বিরুদ্ধে একটি ‘সন্ত্রাসী ষড়যন্ত্রে’ জড়িত। গুয়ানিপা বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।

মানবাধিকার সংগঠন ফোরো পেনাল জানিয়েছে, রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) ভেনেজুয়েলায় অন্তত ৩০ জন রাজনৈতিক বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। তবে সংগঠনটির দাবি, এখনো শত শত রাজনৈতিক বন্দি কারাগারে রয়েছেন। সরকার অবশ্য বলে আসছে, তারা রাজনৈতিক কারণে কাউকে আটক রাখে না; আটক ব্যক্তিরা সবাই অপরাধে জড়িত।

এই মুক্তির প্রক্রিয়া চলছে যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে জাতীয় সমঝোতার অংশ হিসেবে প্রস্তাবিত সাধারণ ক্ষমা আইনের আলোচনার মধ্যেই। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, ঘোষণার তুলনায় মুক্তির গতি এখনো ধীর।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102