বহু অপেক্ষার পর গত শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ওমানের রাজধানী মাসকাটে পরোক্ষ আলোচনায় বসে ওয়াশিংটন ও তেহরান। এই আলোচনায় বসার আগেই মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধজাহাজের বিশাল বহর পাঠিয়েছেন ট্রাম্প। এমন চাপের মধ্যে ইরানকে আলোচনায় বসতে রাজি করাতে সক্ষম হয়েছেন তিনি। তবে ট্রাম্প ইরানকে পাঁচটি শর্ত দিয়েছেন।
শর্তগুলো কী?
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম মারিভ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সরকার ইরানের কাছে পাঁচটি প্রধান দাবি জানিয়েছে। সেগুলো হলো—
১. সমৃদ্ধকৃত ৪০০ কেজি ইউরেনিয়াম অন্যত্র সরানো;
২. ইরানের পারমাণবিক অবকাঠামো ধ্বংস করা;
৩. ব্যালিস্টিক মিসাইল সক্ষমতা ধ্বংস করা;
৪. মিসাইল পোগ্রাম বা উৎপাদন বন্ধ করা;
৫. সিরিয়া, ইয়েমেন, ইরাক ও লেবাননে যেসব সশস্ত্র মিত্র বাহিনী আছে, তাদের সহায়তা বন্ধ করা।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক পর্যবেক্ষক সংস্থা চাথাম হাউসের পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী ব্রোনওয়েন ম্যাডোক্সের মতে, ট্রাম্পের সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং দাবি হলো, যেটি ইরানের মানতে খুবই কষ্ট হবে, সেটি হলো তাদের ব্যালিস্টিক মিসাইল সক্ষমতা ধ্বংস করে দেওয়া।
তিনি বলেন, ‘এসব মিসাইল একমাত্র রক্ষাকবচ, যেগুলো শত্রুদের হাত থেকে ইরানের সরকারকে রক্ষা করছে। এসব মিসাইল ছাড়া ইরান খালি ও ইসরায়েলের আকাশ শক্তি এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্টিলথ বোম্বারের কাছে উন্মুক্ত হয়ে যাবে। ইরানের কোনো সরকারই এ থেকে রক্ষা পাবে না।’
ইরান শর্ত না মানলেই হবে হামলা
ইরানকে যে পাঁচটি শর্ত দেওয়া হয়েছে সেগুলো শুধু মানাই অসম্ভব নয়, এগুলো দেওয়া হয়েছে যেন প্রত্যাখ্যান করা হয়। আর বর্তমান যে পরিস্থিতি বিরাজ করছে, সেটি অনুযায়ী প্রত্যাখ্যানের অর্থ হলো যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালাবে।