সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬, ০১:১৪ পূর্বাহ্ন

বিএনপি ও জামায়াত: কোথায় শক্তি, কোথায় দুর্বলতা?

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

এবারের জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের কার্যকর অনুপস্থিতির কারণে শুরুতে ধারণা করা হয়েছিল যে বিএনপির জয় তুলনামূলকভাবে সহজ হবে। কিন্তু সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সেই ধারণা অনেকটাই বদলে গেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বাস্তবে বিএনপি এখন একাধিক জটিল ও বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে, যা তাদের জন্য নির্বাচনকে সহজ নয় বরং কঠিন করে তুলছে।

সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে বিএনপির সঙ্গে আগে থাকা ইসলামীপন্থি দলগুলোর অবস্থান বদলের মাধ্যমে। এবার তারা আলাদা জোট করে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে এবং সরাসরি বিএনপির প্রতিদ্বন্দ্বিতে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামি মাঠে সক্রিয় প্রতিপক্ষ হিসেবে উঠে এসেছে। এর ফলে বিএনপির প্রচলিত ভোটব্যাংকে বিভাজন তৈরি হচ্ছে এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতার ধরণ আমূল বদলে গেছে।

বিএনপির জন্য আরেকটি বড় সমস্যা তৈরি হয়েছে দলের ভেতরের সংকট থেকে। ৩০০ আসনের মধ্যে প্রায় ৮৯টি আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছে বলে আলোচনা হচ্ছে। কমপক্ষে ৪৬টি আসনে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে নেতারা স্বতন্ত্র বা বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িয়েছেন। এতে দলীয় শৃঙ্খলা দুর্বল হচ্ছে এবং একই দলের প্রার্থীদের মধ্যে ভোট ভাগ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এর পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে বিএনপির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, দখল ও প্রভাব খাটানোর মতো অভিযোগ উঠেছে, যা গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে বলে মনে করে বিশ্লেশকরা। এসব অভিযোগ দলের ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে এবং সাধারণ ভোটারদের মধ্যে নেতিবাচক মনোভাব তৈরি করছে বলেও বিশ্লেষকদের অভিমত।

এবারের নির্বাচনে তরুণ ভোটাররা একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। যারা গত তিনটি বিতর্কিত নির্বাচনে ভোট দিতে পারেনি, তারা এবার ভোট দিতে আগ্রহী। তবে এই তরুণ ভোটারদের ক্ষেত্রে কেবল ভোটের আগ্রহ নয়, বরং আদর্শিক ও ভবিষ্যৎ ভাবনাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিএনপি এখনো তাদের সঙ্গে সেই মাত্রার আদর্শিক সংযোগ তৈরি করতে পারেনি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

নারী ভোটারদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের চ্যালেঞ্জ দেখা যাচ্ছে। বিএনপি নারীদের আকৃষ্ট করতে উঠান বৈঠকসহ বিভিন্ন কর্মসূচি শুরু করলেও তা কিছুটা দেরিতে শুরু হয়েছে।

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নারী ভোটারদের লক্ষ্য করে তুলনামূলকভাবে বেশি সক্রিয়, যা বিএনপির জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করছে।

প্রচারণার দিক থেকে দেখা যাচ্ছে, জামায়াতে ইসলামি তুলনামূলকভাবে বেশি সংগঠিত এবং শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে মাঠে রয়েছে। যদিও বিএনপির সংগঠন দেশজুড়ে বিস্তৃত, তবে সেই সংগঠনকে কার্যকরভাবে মাঠে কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে ঘাটতি রয়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

নারী নেতৃত্ব ও আদর্শিক অবস্থান নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। জামায়াতের শীর্ষ নেতৃত্বে নারীদের ভূমিকা নিয়ে বক্তব্য সামাজিক ও রাজনৈতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিএনপি এটিকে জামায়াতের বিরুদ্ধে একটি আদর্শিক দুর্বলতা হিসেবে তুলে ধরতে চাইলেও, বিশ্লেষকরা বলছেন বিএনপিও এখনো এই বিষয়ে স্পষ্ট ও শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারেনি।

বিশ্লেষকদের মতে, আওয়ামী লীগ অনুপস্থিত থাকলেও ইসলামী দলগুলোর উত্থান, বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ, মাঠপর্যায়ের অভিযোগ, তরুণ ও নারী ভোটারদের সঙ্গে দুর্বল সংযোগ এবং প্রচারণার সীমাবদ্ধতা- এই সবকিছু মিলিয়ে বিএনপির জন্য এবারের নির্বাচন একটি বড় এবং কঠিন চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102