ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে গ্রেপ্তার বিক্ষোভকারীদের বিচারের কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে খামেনি প্রশাসন। ট্রাম্পের হুমকি সত্ত্বেও আটক ব্যক্তিদের শাস্তি দেওয়ার সে সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে দেশটি। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এ কথা জানান ইরানের বিচার বিভাগের প্রধান গোলাম-হোসেইন মোহসেনি-এজেই।
পোস্টে তিনি লিখেন, ‘সাম্প্রতিক ঘটনাবলি নিয়ে বিচার বিভাগের মূল কাজ এখনই শুরু হয়েছে। যার শাস্তি প্রাপ্য তাকে যদি অযৌক্তিকভাবে ছাড় দেওয়া হয়, তবে তা ন্যায়বিচারের পরিপন্থি হবে।’
একই দিনে দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান এবং সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বিচার বিভাগের প্রধান গোলাম-হোসেইন। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত যৌথ বিবৃতিতে তারা জানিয়েছেন, খুনি ও সন্ত্রাসী ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে যারা বিদেশি শক্তির প্ররোচনায় বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন, তারা চাইলে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ‘ইসলামি সহানুভূতি’ পেতে পারেন।
গত ২৮ ডিসেম্বর বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে ১০ হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে প্রায় প্রতিদিনই নতুন করে গ্রেপ্তারের তথ্য জানানো হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, সোমবার কেরমান, ইসফাহান, মাজানদারান, শিরাজ ও বান্দার আনজালিতে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের মধ্যে সরকারি ভবন ও বিভিন্ন স্থাপনায় হামলাকারীরা আছেন।
পুলিশের প্রধান আহমদরেজা রাদান ঘোষণা দিয়েছেন, যারা ‘প্রতারিত’ হয়ে বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন তারা যদি তিনদিনের মধ্যে আত্মসমর্পণ করেন তাহলে কম শাস্তি পাবেন।
এদিকে বিক্ষোভ থেমে থাকলেও ইরানে এখনও পুরোপুরি ইন্টারনেট সচল হয়নি। গত শনিবার সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি তার বক্তব্যে ‘কয়েক হাজার’ মানুষ নিহত হওয়ার কথা উল্লেখ করেন। তেহরানের শাসকদের দাবি, এতো সংখ্যক মানুষ নিহত হওয়ার পেছনে রাষ্ট্রীয় বাহিনী নয় বরং বিদেশি শক্তির সঙ্গে যুক্ত এজেন্টরা দায়ী। সূত্র : আল-জাজিরা।