রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ০৫:০৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
বাগেরহাটে দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে আলিম পরীক্ষার্থী’সহ নিহত ২, আহত ১ গাজী কালু দরগার সরকারি খাস জমি দখলের অভিযোগে মানববন্ধন, তদন্ত ও রেকর্ড বাতিলের দাবি “দক্ষ জনশক্তি গড়লেই নিশ্চিত হবে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন : ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল” সিএন্ডবি বাজারে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নৈরাজ্যের প্রতিবাদে যুবদলের বিক্ষোভ মিছিল রূপগঞ্জ সদর ইউনিয়নে প্রশাসকসহ ১২ সদস্য নিয়োগ ইরান-আমেরিকার মধ্যস্থতায় ফেসে যাচ্ছে পাকিস্তান! কাপ্তাই হ্রদের পানি বিপৎসীমা ছুঁই ছুঁই লিবিয়া থেকে দেশে ফিরলেন ১৭১ বাংলাদেশি ‘জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগেই আজ আমরা মুক্ত স্বাধীনতা পেয়েছি’ প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে পাঁচ ইউরোপীয় রাষ্ট্রদূতের বৈঠক

ইরান-আমেরিকার মধ্যস্থতায় ফেসে যাচ্ছে পাকিস্তান!

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনা যখন আবারও আন্তর্জাতিক উদ্বেগের কেন্দ্রে, তখন পাকিস্তানের কূটনৈতিক তৎপরতা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ইসলামাবাদে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে পাকিস্তান নিজেকে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার সম্ভাব্য সংলাপের একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের এই ভূমিকা ঐতিহ্যগত অর্থে কোনো নিরপেক্ষ মধ্যস্থতা নয়। বরং এটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইসলামাবাদের পরিবর্তিত সম্পর্ক, আঞ্চলিক নিরাপত্তা বাস্তবতা এবং ইরানের সঙ্গে দীর্ঘদিনের জটিল সম্পর্কের ফল।

মূল প্রশ্ন হলো—এই কূটনৈতিক উদ্যোগ কি পাকিস্তান ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি আস্থা তৈরি করবে, নাকি দুই দেশের পুরোনো সন্দেহ ও প্রতিযোগিতাকে আরও স্পষ্ট করে তুলবে?

পাকিস্তানের মধ্যস্থতার পেছনে কী রয়েছে?

আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, সৌদি আরব এবং অন্যান্য আঞ্চলিক শক্তির সঙ্গে ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করে এসেছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে ইসলামাবাদের সম্পর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং পাকিস্তানের সামরিক নেতৃত্ব, বিশেষ করে সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের কূটনৈতিক তৎপরতার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হয়েছে।

এই পরিবর্তিত সম্পর্কই পাকিস্তানকে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংকটে সম্ভাব্য মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় নিয়ে এসেছে।

তবে পাকিস্তানের এই অবস্থান ওমানের মতো ঐতিহ্যবাহী মধ্যস্থতাকারী দেশের সঙ্গে তুলনীয় নয়। ওমান দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যোগাযোগের একটি নির্ভরযোগ্য চ্যানেল হিসেবে পরিচিত। পাকিস্তানের ক্ষেত্রে এই ভূমিকার ভিত্তি মূলত নতুন কূটনৈতিক সমীকরণ।

তেহরানের দৃষ্টিতে পাকিস্তান

ইরানের কাছে পাকিস্তান একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী রাষ্ট্র। দুই দেশের মধ্যে রয়েছে ৯০০ কিলোমিটারের বেশি সীমান্ত, যেখানে নিরাপত্তা পরিস্থিতি দীর্ঘদিন ধরেই স্পর্শকাতর।

তবে সম্পর্কের ভেতরে রয়েছে গভীর অবিশ্বাস।

ইরানের অভিযোগ, পাকিস্তানের ভূখণ্ড ব্যবহার করে কিছু সশস্ত্র গোষ্ঠী ইরানের বিরুদ্ধে কার্যক্রম পরিচালনা করে। অন্যদিকে পাকিস্তানেরও অভিযোগ রয়েছে, সীমান্তবর্তী এলাকায় নিরাপত্তা সমস্যা মোকাবিলায় ইরানের সহযোগিতা যথেষ্ট নয়।

ফলে পাকিস্তানকে তেহরান একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় প্রতিবেশী এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি হিসেবে দেখে।

মধ্যস্থতায় পাকিস্তানের লাভ কোথায়?

বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের মধ্যস্থতার প্রধান লক্ষ্য ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নিজের কৌশলগত গুরুত্ব বাড়ানো।

ইসলামাবাদ দেখাতে চায় যে, আঞ্চলিক সংকট সমাধানে তার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

তবে এই ভূমিকা কার্যকর করতে হলে পাকিস্তানকে ইরানের আস্থাও অর্জন করতে হবে। কারণ কোনো পক্ষের ওপর প্রভাব না থাকলে মধ্যস্থতার কার্যকারিতা সীমিত হয়ে যায়।

এই কারণেই পাকিস্তান একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখে অন্যদিকে তেহরানের সঙ্গে যোগাযোগের পথ খোলা রাখছে।

আফগানিস্তানের অভিজ্ঞতা

পাকিস্তানের বর্তমান কৌশল বোঝার ক্ষেত্রে আফগানিস্তানের অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ।

একসময় তালেবানের সঙ্গে পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘ সামরিক উপস্থিতির সময় ইসলামাবাদ গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে কাজ করেছে।

কিন্তু ২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পর পাকিস্তান-আফগান সম্পর্ক দ্রুত অবনতির দিকে যায়।

এই অভিজ্ঞতা দেখায়, কোনো পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ বা মধ্যস্থতার ভূমিকা সবসময় দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত সুবিধা নিশ্চিত করে না।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102