বসা অবস্থা থেকে উঠে দাঁড়ালেই পেশিতে টান ধরা, হঠাৎ করে কোমর, হাঁটু কিংবা পিঠে ব্যথা বেড়ে যাওয়া—এ ধরনের সমস্যাকে অনেকেই শীতের প্রভাব বা বয়সজনিত বলে এড়িয়ে যান। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব উপসর্গের পেছনে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি বড় একটি কারণ হতে পারে। পর্যাপ্ত সূর্যালোক ও ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবারের অভাবে শরীরে এই গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিনের ঘাটতি তৈরি হলে নানা শারীরিক ও মানসিক সমস্যার লক্ষণ দেখা দেয়।
চিকিৎসকদের মতে, ভিটামিন ডি কমে গেলে প্রথমেই পেশিতে ব্যথা ও দুর্বলতা দেখা দিতে পারে। অল্প কাজেই ক্লান্ত হয়ে পড়া, সিঁড়ি ভাঙতে কষ্ট হওয়া কিংবা হঠাৎ পেশিতে টান ধরা এ ঘাটতির ইঙ্গিত হতে পারে। একই সঙ্গে সারাদিন ঝিমুনি ভাব বা পর্যাপ্ত ঘুমের পরও শরীর ক্লান্ত লাগাও ভিটামিন ডি অভাবের লক্ষণ হিসেবে ধরা হয়।
দীর্ঘদিন ভিটামিন ডি কম থাকলে শরীরে ক্যালসিয়াম শোষণ ব্যাহত হয়, ফলে হাড় ও জোড়ার ব্যথা বাড়তে পারে। অনেক সময় কোমর, হাঁটু ও পিঠের ব্যথাকে বয়স বা অতিরিক্ত কাজের চাপের ফল মনে করা হলেও এটি ভিটামিন ডি ঘাটতির অন্যতম সাধারণ লক্ষণ বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
এ ছাড়া রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে গিয়ে ঘন ঘন সর্দি-কাশি, জ্বর বা সংক্রমণে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতাও দেখা দিতে পারে। ভিটামিন ডি ইমিউন সিস্টেমকে সক্রিয় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ত্বক ও চুলের ক্ষেত্রেও এর প্রভাব রয়েছে। ভিটামিন ডি কম থাকলে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি চুল পড়া এবং ক্ষত শুকাতে দেরি হতে পারে।
মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও এর প্রভাব পড়ে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। দীর্ঘদিন মন খারাপ থাকা, আগ্রহ কমে যাওয়া কিংবা হতাশার অনুভূতির সঙ্গে ভিটামিন ডি ঘাটতির সম্পর্ক রয়েছে বলে বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি ত্বকের কোলেস্টেরলের সঙ্গে বিক্রিয়া করে শরীরে ভিটামিন ডি তৈরি করে। সাধারণত সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টার মধ্যে সূর্যের আলো সবচেয়ে কার্যকর। সপ্তাহে কয়েক দিন ১০ থেকে ৩০ মিনিট রোদে থাকলে অধিকাংশ মানুষের প্রয়োজন মেটে। তবে গাঢ় ত্বকের ক্ষেত্রে ভিটামিন ডি উৎপাদনে তুলনামূলক বেশি সময় লাগতে পারে।
খাবারের মাধ্যমেও ভিটামিন ডি-এর চাহিদা পূরণ করা সম্ভব। তৈলাক্ত মাছ যেমন স্যামন, টুনা ও সার্ডিন, ডিমের কুসুম, মাশরুম, ফোর্টিফাইড দুধ ও দই, কমলার রস, গরুর কলিজা ভিটামিন ডি-এর ভালো উৎস। এ ছাড়া কড লিভার অয়েল, সয়া দুধ, বাদাম দুধ ও চালের দুধেও এই ভিটামিন পাওয়া যায়, বিশেষ করে ফোর্টিফাইড হলে।
চিকিৎসকরা বলছেন, ভিটামিন ডি ঘাটতির লক্ষণ সবার ক্ষেত্রে একরকম নাও হতে পারে। দীর্ঘদিন এসব উপসর্গ দেখা দিলে নিজে সিদ্ধান্ত না নিয়ে রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে ভিটামিন ডি-এর মাত্রা জানা জরুরি। সময়মতো ঘাটতি শনাক্ত হলে সঠিক খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত রোদে থাকা এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের মাধ্যমে সহজেই এ সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।