রমজানে সেহরি, ইবাদত এবং কর্মব্যস্ততার কারণে ঘুমের স্বাভাবিক রুটিনে বড় পরিবর্তন আসে। পর্যাপ্ত ও সঠিক সময়ে ঘুম না হলে ক্লান্তি, মেজাজ খিটখিটে হওয়া এবং হজমের সমস্যা দেখা দিতে পারে। রমজানে শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা বজায় রাখতে ঘুমের গুরুত্ব অপরিসীম। ঘুমের ঘাটতি হলে সারাদিন রোজা রাখা কষ্টকর হয়ে পড়ে এবং ইবাদতেও মনঃসংযোগ করা কঠিন হয়। সুস্থ থাকতে নিচের সময়সূচি ও নিয়মগুলো অনুসরণ করা যেতে পারে।
১. রাতের প্রধান ঘুম (এশা ও তারাবির পর)
এশার নামাজ ও তারাবি শেষ করে দ্রুত রাতের খাবার খেয়ে শুয়ে পড়া উচিত। সাধারণত রাত ১১টা থেকে সাহরির আগ পর্যন্ত অন্তত ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন ঘুম নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এটি শরীরের কোষ মেরামত এবং শক্তি সঞ্চয়ে প্রধান ভূমিকা রাখে।
২. সেহরি ও ফজরের পরের ঘুম
সেহরি ও ফজরের নামাজের পর অনেকেই সরাসরি কাজে চলে যান। তবে সম্ভব হলে এ সময় ১ থেকে ২ ঘণ্টা ঘুমিয়ে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। এতে করে রাতের অবশিষ্ট ঘুমের ঘাটতি পূরণ হয় এবং দিনের কাজের জন্য শরীর সতেজ থাকে।
৩. দুপুরে অল্প বিশ্রাম (কায়লুলা)
দুপুরের দিকে বা জোহরের নামাজের পর ১৫ থেকে ৩০ মিনিটের একটি ছোট ঘুম বা বিশ্রাম (যাকে সুন্নাহর পরিভাষায় ‘কায়লুলা’ বলা হয়) অত্যন্ত কার্যকর। এটি মস্তিষ্ককে সচল রাখে এবং বিকেলের ক্লান্তি দূর করতে সাহায্য করে। তবে আসরের পর ঘুমানো এড়িয়ে চলা উচিত, কারণ এটি রাতে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।
৪. ঘুমের মান উন্নত করতে কিছু সতর্কতা
একটানা ঘুমের চেষ্টা: বারবার ঘুম না ভেঙে অন্তত কয়েক ঘণ্টা একটানা ঘুমানোর চেষ্টা করুন।
ক্যাফেইন বর্জন: ইফতারের পর অতিরিক্ত চা বা কফি পান করা থেকে বিরত থাকুন, কারণ এটি রাতে দ্রুত ঘুমানোর পথে বাধা সৃষ্টি করে।
স্ক্রিন টাইম কমানো: ঘুমানোর অন্তত ৩০ মিনিট আগে মোবাইল বা ল্যাপটপের স্ক্রিন থেকে দূরে থাকুন।
ভারী খাবার এড়িয়ে চলা: ইফতারে খুব বেশি তৈলাক্ত বা ভারী খাবার খেলে ঘুমের ব্যাঘাত ও অ্যাসিডিটি হতে পারে।
রমজানে একবারে ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমানো সম্ভব হয় না। তাই ঘুমের সময়টিকে কয়েক ভাগে ভাগ করে নিতে হবে। রাতে অন্তত ৫ ঘণ্টা এবং দিনে ১-২ ঘণ্টার একটি সমন্বিত রুটিন আপনাকে পুরো মাস কর্মক্ষম রাখবে।