বিয়ে মানবজীবনের জন্য আল্লাহর অমূল্য নেয়ামত। কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, তিনি তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের সঙ্গী সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের থেকে শান্তি ও স্নেহ অনুভব করতে পার এবং একে অপরের প্রতি ভালোবাসা ও দয়া বজায় থাকে। এটি তাদের জন্য নিদর্শন, যারা চিন্তাভাবনা করে। (সূরা রূম, আয়াত ২১)
ইসলামের দৃষ্টিতে দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে প্রথম স্ত্রীর অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। তবে এতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ শর্ত জড়িত রয়েছে। ইসলাম একাধিক বিয়ের অনুমতি দিয়েছে। কিন্তু শর্ত হলো- সব স্ত্রীদের প্রতি সমান ও ন্যায্য আচরণ বজায় রাখতে হবে। যদি বৈষম্য করা হয় বা তাদের অধিকার পূর্ণভাবে দেওয়া না হয়, তাহলে দ্বিতীয় বিয়ে জায়েজ হবে না।
আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যদি তোমরা ভয়ে পড়ে যে সমান আচরণ করতে পারবে না, তবে একটিই বিয়ে করো।’ (সূরা নিসা, আয়াত ৩)
নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যিনি দুইজন স্ত্রী রাখবেন এবং তাদের মধ্যে একজনের প্রতি বেশি পক্ষপাতী হবেন, সেই ব্যক্তি কিয়ামতের দিনে বিকলাঙ্গ অবস্থায় উঠবেন।’ (সুনানে আবু দাউদ)
যদিও প্রথম স্ত্রীর অনুমতি নেওয়া আবশ্যক নয়, তবু স্বামীর নৈতিক দায়িত্ব হলো স্ত্রীকে বিষয়টি বোঝানো এবং অনুমতি নেওয়া, যাতে ন্যায় ও উত্তম আচরণ বজায় থাকে। স্ত্রীর প্রতি সদাচরণ করা স্বামীর কর্তব্য এবং তাকে খুশি রাখাও তার দায়িত্ব।
আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তাদের সাথে দয়া ও সততার সঙ্গে জীবন যাপন কর, যদি তাদেরকে অপছন্দ কর, তবে হতে পারে যে তোমরা যাকে অপছন্দ করছ, তার মধ্যেই আল্লাহ বহু কল্যাণ রেখেছেন।’ (সূরা নিসা, আয়াত ১৯)
নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘মুমিনদের মধ্যে উত্তম হলো তারা, যারা তাদের স্ত্রীদের কাছে উত্তম।’ (সুনানে তিরমিজি)
আরেক হাদিসে তিনি বলেন, ‘নারীদের প্রতি সদাচরণ করা এমন যেমন একটি বাঁকা হাঁড়কে সঠিক অবস্থায় রাখার মতো; সঠিকভাবে না রাখলে তা ভেঙে যেতে পারে। তাই নারীদের প্রতি সদাচরণের উপদেশ গ্রহণ কর।’ (সহিহ বুখারি)