বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬, ০৪:৫২ অপরাহ্ন

ফেরেশতারা যেভাবে দায়িত্ব পালন করেন

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ১০ জানুয়ারী, ২০২৬

ফেরেশতাদের প্রকৃত সংখ্যা একমাত্র আল্লাহ তায়ালাই জানেন। কোরআন ও হাদিসে নির্দিষ্ট করে তাদের সংখ্যা বলা না হলেও হাদিসের বর্ণনা থেকে বোঝা যায়, এ সংখ্যা মানুষের কল্পনারও বাইরে। বিভিন্ন হাদিসে কয়েকজন প্রসিদ্ধ ফেরেশতার নাম ও দায়িত্ব বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইসলামী বিশ্বাস অনুযায়ী ফেরেশতারা আল্লাহর বিশেষ সৃষ্টি, তারা আল্লাহর আদেশ অনুযায়ী নির্দিষ্ট দায়িত্ব পালন করেন। কোরআন ও হাদিসে যেসব ফেরেশতার কথা সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয়েছে, তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকজন হলেন—

হজরত জিবরাইল (আ.)

তিনি প্রসিদ্ধ চার ফেরেশতার অন্যতম এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে নবীদের কাছে ওহী পৌঁছানোর দায়িত্বপ্রাপ্ত। কোরআনের তিন জায়গায় তার নাম ‘জিবরিল’ হিসেবে এসেছে। আবার কোথাও তাকে রুহ, রাসুলুন কারিম, রুহুল আমিন ও রুহুল কুদস বলা হয়েছে। একটি হাদিসে তার উপাধি এসেছে ‘নামুস’। নবী-রাসুলদের কাছে আল্লাহর বার্তা পৌঁছে দেওয়াই ছিল তার প্রধান দায়িত্ব।

ইসরাফিল (আ.)

কিয়ামতের দিন শিঙ্গা ফুঁকবেন যে ফেরেশতা, তার নাম ইসরাফিল। হাদিসে তাকেও প্রসিদ্ধ চার ফেরেশতার একজন বলা হয়েছে। তিনি দুইবার শিঙ্গায় ফুঁক দেবেন। প্রথমবার সবকিছু ধ্বংস হয়ে কিয়ামত সংঘটিত হবে, দ্বিতীয়বার ফুঁক দেওয়ার পর পুনরুত্থান হবে।

হাদিসে এসেছে, ইসরাফিল (আ.) শিঙ্গা হাতে নিয়ে আল্লাহর নির্দেশের অপেক্ষায় আছেন।

আজরাঈল (আ.)

পৃথিবীতে মানুষের নির্ধারিত হায়াত শেষে রুহ কবজ করার দায়িত্ব আজরাঈল (আ.)-এর। কোরআনে তাকে মালাকুল মাউত বা মৃত্যুর ফেরেশতা বলা হয়েছে। আল্লাহ বলেন, তোমাদের জন্য নিযুক্ত মৃত্যুর ফেরেশতা তোমাদের প্রাণ হরণ করবে, তারপর তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কাছে ফিরে যাবে। (সুরা আস-সাজদাহ, আয়াত : ১১)

মিকাইল (আ.)

আল্লাহর আদেশে বৃষ্টি বর্ষণ, বাতাস প্রবাহ, ঋতু পরিবর্তনসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক কার্যক্রমের তত্ত্বাবধান করেন মিকাইল (আ.) । কোরআনে তার নাম একবারই উল্লেখ করা হয়েছে।

কিরামান কাতিবিন (রাকিব ও আতিদ)

এই দুই ফেরেশতা সবসময় মানুষের সঙ্গে থাকেন। ডান পাশের ফেরেশতা রাকিব। তিনি মানুষের ভালো কাজ লিখে রাখেন, আর বাম পাশের ফেরেশতা আতিদ। তিনি মানুষের মন্দ কাজ লিখে রাখেন। কিয়ামতের দিন তারা মানুষের আমলের সাক্ষী পেশ করবেন আল্লাহর সামনে।

আরশ বহনকারী ফেরেশতারা

ইলিয়্যিন নামে পরিচিত ফেরেশতারা আল্লাহর আরশ বহন করেন এবং সর্বক্ষণ আল্লাহর তাসবিহ পাঠ করেন। কোরআনে বলা হয়েছে, যারা আরশ বহন করে এবং যারা তার আশপাশে থাকে, তারা তাদের প্রতিপালকের প্রশংসা ও পবিত্রতা ঘোষণা করে এবং মুমিনদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে।

মুনকার ও নাকির

মৃত্যুর পর কবরে মানুষের কাছে প্রশ্ন করতে আসেন এই দুই ফেরেশতা। তাদের নামের অর্থ অচেনা ও অপরিচিত। কারণ তারা এমন আকৃতিতে আসে, যা মৃত ব্যক্তি আগে কখনো দেখেনি। তারা প্রশ্ন করেন, তোমার রব কে, তোমার নবী কে, তোমার কিতাব কী?

এ ছাড়া হাদিসে আরও অনেক ফেরেশতার কথা এসেছে, যারা মানুষকে সৎকাজের অনুপ্রেরণা দেন, কোরআন তিলাওয়াতের সময় পৃথিবীতে অবতরণ করেন, মেঘ ও বজ্রের দায়িত্ব পালন করেন কিংবা পৃথিবীর জীবজন্তুর তত্ত্বাবধানে নিয়োজিত থাকেন।

ইসলামী বিশ্বাসে ফেরেশতারা আল্লাহর নির্দেশ বাস্তবায়নের এক অনন্য মাধ্যম। তাদের অস্তিত্ব মুসলমানদের জন্য অদৃশ্য জগতের বাস্তবতা ও আল্লাহর অসীম ক্ষমতার স্মারক হিসেবেই বিবেচিত।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102