জাপানে বাংলাদেশিদের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের প্রস্তুতি নিয়ে বিএসএসএজে-এর জাপানিজ বক্তৃতা প্রতিযোগিতা জাপান নির্দেশিকা সেমিনার-২০২৫ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (২২ ডিসেম্বর) রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিএসএসএজে-এর এই আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা উপদেষ্টা প্রফেসর ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার। উদ্বোধন ও সভাপতিত্ব করেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. নেয়ামত উল্লাহ ভূঁইয়া।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলী, প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত ড. লুৎফে সিদ্দিকী, JASSO-এর ডেপুটি এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর Takafumi Ota, JICA-এর সিনিয়র প্রতিনিধি Yoku Morikawa, Kitada Ryosuke, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জাপানিজ ভাষা ও কালচার বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আনসারুল আলম, Kazuhiro Sekiguchi Sensei এবং Tomoyuki Fukui Sensei, কিউশু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক প্রফেসর ড. আশির আহমেদ, কাইকোম গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অঞ্জন দাস, ড. শেখ আলীমুজ্জামান, একেএম আহমেদুল ইসলাম বাবু, BSSAJ সভাপতি নাগামাৎসু ফারুক, সহ-সভাপতি মফিজ উদ্দিন খান, সাধারণ সম্পাদক মো: নজরুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক মো: নাজিম উদ্দিন, এবং এক্সিকিউটিভ সদস্য মোহাম্মদ হোসাইন, মাহমুদর রহমান, সিটি ব্যাংক এর হেড অব স্টুডেন্ট ব্যাংকিং সায়েফুল সিরাজ সায়েফ। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন দশদিক টিভি জাপান-এর নির্বাহী সম্পাদক এইচ এম দুলাল ও শামীমা নিশীথ।
অনুষ্ঠানের প্রথম অধিবেশনে অনলাইনে প্রাথমিকভাবে অংশগ্রহণ করেন প্রায় ৬৫০ জন জাপানি ভাষা শিক্ষার্থী। বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ৫০ জন দ্বিতীয় ধাপে উত্তীর্ণ হন এবং পরবর্তীতে সাক্ষাৎকার ও গভীর মূল্যায়নের মাধ্যমে ১৫ জন চূড়ান্ত প্রতিযোগী নির্বাচিত হন। চূড়ান্ত পর্বে প্রতিযোগীরা জাপানি ভাষায় বক্তব্য উপস্থাপন করেন এবং বিচারকমণ্ডলীর মূল্যায়নের ভিত্তিতে সেরা তিনজনকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় ও মূল অধিবেশনে জাপানে উচ্চশিক্ষা, স্কলারশিপ, ভিসা নীতিমালা, জীবনযাপন, আইন-কানুন এবং কর্মসংস্থানের বাস্তব দিকনির্দেশনা তুলে ধরা হয়।
বক্তারা বলেন, জাপানে সাফল্যের জন্য কেবল ভাষা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়াই যথেষ্ট নয়; বরং সংস্কৃতি, শৃঙ্খলা, আইন মেনে চলা এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতি অপরিহার্য।
বিএসএসএজে-এর সভাপতি নাগামাৎসু ফারুক বলেন, বিএসএসএজে একটি অরাজনৈতিক ও শিক্ষাভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, যার লক্ষ্য জাপানে উচ্চশিক্ষা ও ক্যারিয়ার গড়তে আগ্রহী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য একটি নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য সহায়তা ব্যবস্থা তৈরি করা।
দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষাবিদ, নীতিনির্ধারক, কূটনীতিক, জাপান সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে এক আন্তর্জাতিক শিক্ষা-সংলাপের কেন্দ্রে মিলনায়তনটি পরিণত হয়। অনুষ্ঠানের স্পন্সর ও সহযোগিতায় ছিল জেপিটি, সিটি ব্যাংক এবং জাপান ফাউন্ডেশন। জাপানিজ শিল্পী ওজায়া সেনসির বাংলাদেশ–জাপান মৈত্রী সংগীত পরিবেশনার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।