গতকাল রোববার (২৫ মে) সকাল থেকে আবারও কাস্টমস সদস্যরা কর্মবিরতি শুরু করেছেন বেনাপোল বন্দরে। এতে কোনো রকমে আমদানি বাণিজ্য চললেও বন্দর থেকে পণ্য খালাস বন্ধ রয়েছে।
এদিকে বাণিজ্যি নিষেধাজ্ঞা অন্যদিকে এনবিআর সংস্কারের দাবিতে এনবিআর সংস্কার পরিষদের একের পর এক নানা কর্মসূচিতে অচলাবস্থার মধ্যে পড়েছে বেনাপোল স্হল বন্দর দিয়ে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যিক কার্যক্রম। সময় মতো পণ্য খালাস নিতে না পারায় বিরুপ প্রভাব পড়েছে রাজস্ব আয়েরউপর। চলমান অচলাবস্থা কাটাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন বাণিজ্যিক ব্যাবসাী সংশিষ্টগন।
বাণিজ্যিক সংশ্লিষ্টরা জানান, যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হওয়ার কারণে স্থলপথে সবচেয়ে বেশি বাণিজ্য হয় বেনাপোল ও পেট্রাপোল স্হল বন্দরের মধ্যে। ৫ই আগস্টের পর থেকে কখনও স্থলপথে পণ্য আমদানি, রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা, কখনো বিভিন্ন দাবিতে কাস্টমসের কর্মবিরতি নানা প্রতিকূল অবস্থা মোকাবিলা করতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। এতে গুরুত্বপূর্ণ বেনাপোল বন্দর দিয়ে বাণিজ্য ও রাজস্ব ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, এনবিআর সংস্কারের দাবি নিয়ে এনবিআর সংস্কার পরিষদের নানা কর্মসূচিতে গত ১১ দিনে ৯ দিন কর্মবিরতি পালন করেছে কাস্টমস সদস্যরা। বড় একটি সময় বন্ধ হয়ে পড়েছে আমদানি বাণিজ্য। স্বাভাবিক সময় প্রতি দিন গড়ে ৫০০ ট্রাক পণ্য আমদানি ও ২৫০ ট্রাক পণ্য রফতানি হলেও সবশেষ গত শনিবার (২৪ মে) আমদানি ছিল ২৫১ ট্রাক ও রফতানি মাত্র ১৩১ ট্রাক। এছাড়াও রাজনৈতিক অস্থিরতায় পাল্টাপাল্টি নিষেধাজ্ঞার কারণে জরুরি পণ্য স্থলপথে আমদানি, রফতানি হচ্ছে না।
কর্মবিরতি সময়ে কাস্টমস রফতানি বাণিজ্য ও পাসপোর্টধারী যাত্রীদের যাতায়াত ব্যবস্থা সচল রাখছে। তবে আমদানি বন্ধ রাখায় রফতানি পণ্য নিতে চাইছে না ভারতের ব্যবসায়ীরা।
বেনাপোল আমদানি, রফতানি সমিতির সভাপতি সহসভাপতি আমিনুল হক বলেন, গত বৃহস্পতিবার কোনোরকমে কাজ হলেও আবার ২৪ ও ২৫ মে এনবিআরের আওতাধীন কাস্টমস ভ্যাট অফিস, কাস্টমস সহ সংশিষ্ট কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে কর্মবিরতি চলছে। এই অবস্থা চলতে থাকায় চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। সময় মতো জরুরি পণ্য সরবরাহ করতে পারছি না। বাণিজ্যে অচলাবস্থা নিরসনে সরকারকে পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ জানায়।
বেনাপোল রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার সাইদুর রহমান জানান, ভারত ও বাংলাদেশ রেল স্থলপথে নানা নিষেধাজ্ঞায় আমদানি কমেছে। এতে করে এবার রেলওয়ের রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কষ্ট হয়ে পড়বে।
বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়নের কাস্টমস বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল লতিফ বলেন, ‘এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ তাদের বিভিন্ন দাবি নিয়ে গত ২২ মে দুপুরে প্রধান উপদেষ্টার কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে। আমরা আশা করেছিলাম এই ধরনের পদক্ষেপ চলমান অচলাবস্থা কাটতে পারে। কিন্তু কোনো সমাধান হলো না।
বেনাপোল স্হল বন্দর উপপরিচালক মামুন কবির তরফদার জানায়, কাস্টমসের কর্মবিরতির কারণে স্বাভাবিক বাণিজ্য হচ্ছে না। এতে বাণিজ্য ও রাজস্ব ঘাটতির আশঙ্কা রয়েছে।
রাজস্ব আহরণকারী বেনাপোল সোনালি ব্যাংক এর এ জিএম জহির রায়হান জানায়, নিষেধাজ্ঞা অন্যদিকে কাস্টমসের কর্মবিরতির কারণে আশানুরুপ রাজস্ব আহরণ করতে পারছি না বলে জানান।