পুলিশ বলছে, তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের সনাক্তের চেষ্টা করছে। এই ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান।
উলেক্ষ যশোর অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়া পৌর কৃষক দলের সভাপতি তরিকুল ইসলাম সরদার গত বৃহস্পতিবার (২২ মে) সন্ধ্যায় মাছ চাষের ঘের লিজ নেওয়ার জন্য ডহরমশিয়াহাটি গ্রামে পিন্টু বিশ্বাসের বাড়ি যান। সেখানে চুক্তিপত্র করা সময় গোলযোগ হলে অজ্ঞাত ৭/৮ দুর্বৃত্ত ঘটনাস্থলে পৌঁছে কুপিয়ে ও গুলি করে তরিকুল ইসলামকে হত্যা করে পালিয়ে যায়। এ ঘটনার পর তরিকুল ইসলামের সমর্থকরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং তারা পিন্টু বিশ্বাসের তিনটি ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরবর্তীতে ওই বাড়ির পাশের ১৩ টি পরিবারের ১৮টি বাড়িঘরেও আগুন দেয়া হয়।
ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, অজ্ঞাত লোকজন দল বেঁধে এসে তাদের বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। এবং ভয়ে তারা বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। এরপর দূর থেকে দেখতে পান তাদের বাড়ি ঘরে আগুন জ্বলছে। সকালে বাড়ি ফিরে দেখেন ধানের গোলা, বসতঘর, রান্না ঘর, গোয়ল ঘর, টিভি, ফ্রিজ, মোটরসাইকেল, বাইসাইকেল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চারদিকে ঘরবাড়ির জিনিসপত্র পোড়া। কারও বাড়ির ঘরের ইট আছে শুধু, ঘরের ছাউনি, ঘরের ভিতরে জিনিসপত্র পুড়ে ছাই হয়ে আছে। গ্রামের পাড়াটিতে বেশির ভাগ বাড়ির পুরুষ শূন্য। দূরদূরান্ত থেকে আত্মীয় স্বজনেরা দলবেঁধে খাবার নিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের বাড়িতে আসছেন। পাড়াটিতে গতক (২২ মে) রাত থেকে বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন। প্রতিটি বাড়িতে উনুন জ্বলেনি গতকাল শুক্রবার রাত অবধি। নিরাপত্তা দিতে মোড়ে মোড়ে মোতায়েন করা হয়েছিল পুলিশ। মাঝে মাঝে আসছেন সেনাবাহিনীর সদস্যরাও। তার পরেও আতংক কাটেনি মতুয়া সম্প্রদায়ের এই পাড়ায়।
ক্ষতিগ্রস্ত চন্ডিকা বিশ্বাস জানান, তাদের দুটি বাড়ি পুড়ে গেছে। পোড়া বাড়ির মেঝেতে শয্যাশায়ী আছেন তার শাশুড়ি। বাড়িতে কোনো পুরুষ লোক নেই বলে জানান।
তিনি বলেন, ‘কিছু বলার নেই। কি বলবো! যাহা যাওয়ার তো আমাদের চলে গেছে। আমরা কী অপরাধ করেছি। নিরীহ গরিব আমরা। যারা অপরাধ করেছে, তাদের শাস্তি দিতে হবে। আমরা তো কোনো অপরাধ করেনি। তাহলে আমাদের কেন ক্ষতি করলো।
হামলার ভয়াবহতা স্মৃতি চারণ করে স্মৃতি বিশ্বাস নামে এক নারী বলেন, ‘যখন হামলা হয়, তখন ছেলে, ছেলের বেটার বউ আমার স্বামী বিলের জল ভিতর দিয়ে পাশের গ্রামে চলে যাই। তাদের বলেছি আমাদের ঘরে যা আছে নিয়ে যাও, তার পরেও আগুন দিও না তোমরা। তারপরেও লুটপাট করে আগুন দিয়ে তারা চলেগেছে।
আগে আগুন দেয় পরিতোষের বাড়িতে।
তিনি বলে কোনো রকম জীবন বাচিয়ে নিয়ে পালিয়ে গেছি। জামা গেঞ্জি পরার সময়টুকুও পাইনি। বাড়িতে বুড়ো মা বাবা ছিল, তাদের ফেলে চলে গেছিলাম। তার দাবি, আগুন লাগছে, ফায়ার সার্ভিসের লোকদের জানানো হয়, হামলা কারীরা তাদের আসতে দেয়নি। ঘরবাড়ি, দোকানপাট পুড়ে গেছে। আগুনের তাপে গাছের পাতাও পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আমরা আতংকে আছি। এই পাড়াতে পুরুষ শূন্য।
ক্ষতিগ্রস্ত শংকর বিশ্বাস বলেন, ‘আমাদের মতো নির অপরাধ মানুষদের যারা ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, তাদের আইননের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন যশোর বাম গণতান্ত্রিক জোটের নেতারা।
এছাড়া পুলিশ সুপার রওনক জাহান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের যশোরের নেতারা ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলেছেন।
অভয়নগর থানার ওসি আব্দুল আলীম জানান, তরিকুল হত্যাকে কেন্দ্র করে কিছু বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ঘটনা ঘটেছে। রাতেই পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আগুন নিয়ন্ত্রণ করেন।
তিনি জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের সনাক্তের চেষ্টা চলছে এবং এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ওসি আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি। তবে কয়েকজনকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে।