সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬, ০১:৩৯ অপরাহ্ন

ফাইল ধরলেই লাখ টাকা, না দিলে মিলে হয়রানি

আব্দুর রহিম, গুইমারা, খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ১৯ মে, ২০২৫
পার্বত্য খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলার সার্ভেয়ার আব্দুর রহমানের কাছে কোন ফাইল নিয়ে গেলেই লাখ টাকার নিচে হাত দেননা তিনি। তার এমন ঘুষ, দূর্ণীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিকার চেয়ে জেলা প্রশাসকের নিকট একাধিক লিখিত অভিযোগ করেছে উপজেলার ভুক্তভোগিরা।
পাহাড়ে নানান সংকটের মধ্যে অন্যতম সংকট হলো ভুমি সমস্যা। আর এই সমস্যার প্রধান ভুক্তভোগি হলো পার্বত্য বাঙ্গালীরা। যার দরুণ প্রতিনিয়তই ভুমি অফিসে ছুটে যেতে হয় এখানকার মানুষকে। রামগড় ভুমি অফিসও তার ব্যাতিক্রম নয়। কিন্তু ভুক্তভোগিদের অভিযোগ এখানে সেবা পেতে হলে গুনতে হয় নগদ টাকা, নয় উপরমহলের শক্তি। আর এমন একাধিক অভিযোগ রয়েছে রামগড় ভুমি অফিসের সার্ভেয়ার আব্দুর রহমানের বিরুদ্ধে। যিনি ঘুষ ছাড়া কোন কাজই সঠিক ভাবে করতে নারাজ। রামগড়ে জনস্রুতিতে রুপান্তরিত হয়েছে “বাঘে ছুলে তিন ঘা কিন্তু সার্ভেয়ার আব্দুর রহমান ছুলে ষোল ঘা” এই যখন রামগড় ভুমি অফিসের অবস্থা তখন উপায় না পেয়ে ভুক্তভোগিরা এই সার্ভেয়ারের বিরুদ্ধে দিয়েছে একের পর এক  জেলা প্রশাসকের নিকট লিখিত অভিযোগ।
রাগড়র উপজেলার বড়পিলাক মোজার বাসিন্দা মো: সাব্বির আলী, পিতা মৃত খান মোহাম্মদ বলেন, আমি আমার বাবার সম্পত্তি ওয়ারিশ সূত্রে আমার নামে নাম জারি করতে গেলে সার্ভেয়ার আব্দুর রহমান আমার কাছে নানা অযুহাতে ৩লক্ষ টাকা ঘুষ দাবী করে। আমি তাঁকে অনেক আকুতি মিনতি করলেও আমার সকল কাগজপত্র ঠিক থাকা সত্ত্বেও সে সঠিক ভাবে এখন পর্যন্ত আমার কাজ করে দেয়নি। উপরোন্তু আমাকে নানা হুমকি ধমকি প্রদান করে। উপায় না পেয়ে আমি সহকারী কমিশনার ভুমি রামগড়’র নিকট লিখিত অভিযোগ করি। আমি আইনের কাছে ন্যায় বিচার চাই।
একই এলাকার বাসিন্দা মৃত আলী হোসেনের ছেলে সাদেক আলী বলেন আমার ক্রয়কৃত রেজিস্ট্রিকৃত জায়গার উপর জনৈক জুয়েল  মালিকানা দাবী করে একটি মামলা করে। যা দীর্ঘদিন মামলা পরিচালনারপর কোর্ট রায় প্রদান করে। যা আমি আমার পক্ষে পাই। কিন্তু এতদসত্ত্বেও সার্ভেয়ার আব্দুর রহমানের কাছে একটি তদন্ত আসলে সে আমাকে নানান ভাবে হয়রানী করে অতপর আমার নিকট ৩লক্ষ টাকা ঘুষ দাবী করে। আমি তার দাবীকৃত টাকা দিতে অপারগতা জানালে সে আমাকে বিভিন্ন হুমকি ধমকি প্রদান করে। এবং এক পর্যায়ে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা বানোয়াট প্রতিবেদন প্রদান করে। আমি নিরুপায় হয় জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ করে এখন আইনই আমার ভরসা।
আরেক ভুক্তভোগি বড়পিলাক মোজার মৃত আবুল বশরের ছেলে আবু জাফর স্বপন জানান, বন্দোবস্তি মূলে প্রাপ্ত আমার পৈত্রিক সম্পত্তি ওয়ারিশ সূত্রে আমি ও আমাদের অপরাপর ওয়ারিশগন বন্টনমূলে ভোগদখলে বিদ্যমান। জনৈক শাহিন আলম ২০২৩ সালে আমাদের রেকডিয় সম্পত্তিকে তার দাদার দাবি করে একটি সিআর মামলা করে। যার প্রেক্ষিতে পূর্বে উপজেলা সহকারী কমিশনার ভুমি রামগড় ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গুইমারা দুইদুইটি সরেজমিন তদন্ত করে আদালতে রিপোর্ট প্রদান করে।  ২০২৫ সালে আরো একটি তদন্ত সহকারী কমিশনার ভুমি রামগড়’র নিকট আদালত ন্যাস্ত করে। সহকারী কমিশনার ভুমি তদন্তটি সার্ভেয়ার মো:আব্দুর রহমানকে দেয়। তার প্রেক্ষিতে সার্ভেয়ার আমাদেরকে ০৯/০১/২০২৫ নোটিশ করে ১৫/০১/২০২৫ জায়গার কাগজপত্রসহ গন্যমান্য ব্যাক্তিসহ উপস্থিত থাকার জন্য আমি আমার সমস্ত কাগজপত্রসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যাক্তি বর্গকে নিয়ে উপস্থিত থাকি কিন্তু তিনি এসে আমার কোন কাগজপত্র না দেখে কোন ব্যাক্তিবর্গকে কোন কিছু না জিজ্ঞেস করে দায়সারা ভাবে চলে যায়। পরবর্তিতে আরো একবার তিনি তদন্তের নামে আসেন। এর পর সে আমাকে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ভাবে ডেকে নিয়ে নানা ভাবে হয়রানি করে। অবশেষে সে আমাকে ১৬/০৪/২০২৫ইং রামগড় ডেকে নেয় আমি আমার এলাকার দুইজন গন্যমান্য ব্যাক্তিসহ তার কাছে যাই, সেখানে  গেলে সে নানান ধরনের বিভ্রান্তি মূলক কথা বলে আমাকে এক পর্যায়ে সে আমার সাথে থাকা ব্যাক্তিদের সম্মুখেই ২লক্ষ টাকা ঘুষ দাবী করে। আমি তাৎক্ষনিক তা দিতে  অস্বীকার করি। এতে সে ক্ষিপ্ত হয়ে গিয়ে আমাকে বলে আমাকে চিনিসনা পায়ের নীচে মাটি রাখবোনা।
তার এহেন হুমকিতে আমি ভিত হয়ে জেলা  প্রশাসকের নিকট ন্যায় বিচার চেয়ে লিখিত অভিযোগ করেছি।
নাম প্রকাশে অনইচ্ছুক রামগড় ভুমি অফিসের এক কর্মচারী বলেন, কি বলবো ভাই সে একটা ডাকাত সেবা প্রার্থী মানুষ গুলোর সাথে সে অন্যায়ভাবে অবিচার করে, সবকিছু দেখেও আমরা তাঁকে কিছু বলতে পারিনা। কারণ তার হাত অনেক লম্বা।এর আগেও সে কক্সবাজারে ঘুষ গ্রহনের দায়ে জেল খেটেছে। কুমিল্লা, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় সে সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছে তদন্ত করলেই তা পরিষ্কার হয়ে যাবে। নাম না প্রকাশ করার শর্তে আরেক কর্মকর্তা বলেন, সে পতিত আওয়ামী শ্বৈরাচারের আজ্ঞাবহ হয়ে বিগত সময় অসখ্য অপরাধ করলেও কেউ তার কিছু করতে পারেনি।
এ ব্যাপারে সার্ভেয়ার আব্দুর রহমানকে একাধিকবার ফোন করলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
সার্ভেয়ার আব্দুর রহমানের বিরুদ্ধে ঘুষ, দূর্ণীতি, অনিয়মের ব্যাপারে জানতে চাইলে সহকারী কমিশনার ভুমি ইসমত জাহান তুহিন বলেন, তার বিরুদ্ধে কয়েকজন ভুক্তভোগির অভিযোগ পেয়েছি তাদেরকে আমি শুনানির জন্য ডেকেছি শুনানি শেষে যদি সার্ভেয়ার অভিযুক্ত হয় তাহলে তার বিরুদ্ধে সরকারী কর্মচারী বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে। এবং সার্ভেয়ার আব্দুর রহমানের পূর্বের কর্মস্থলে সে জেল খাটা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে মামলা চলমান বলে জানি কিন্তু জেল খেটেছে কিনা সে ব্যাপারে আমি জানিনা।
সার্ভেয়ার আব্দুর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগের ব্যাপারে জেলা প্রশাসক এবিএম ইফতেখারুল ইসলাম খন্দকার এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অভিযোগগুলো প্রসেসিং-এ রয়েছে। অপরাধ প্রমানিত হলে সরকারী চাকুরী বিধি মোতাবেক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102