বর্ষা কিংবা ঋতু পরিবর্তনের সময়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তে দেখা যায়। এ সময় জ্বর হলেই আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। ডেঙ্গু আক্রান্তদের বড় একটি অংশ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বাড়িতেই সুস্থ হয়ে ওঠেন। তবে রোগের কিছু লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া প্রয়োজন। তাই ডেঙ্গু নিয়ে সচেতন থাকতে জানা দরকার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
১. ডেঙ্গুর প্রধান লক্ষণ কী?
ডেঙ্গুর সবচেয়ে পরিচিত লক্ষণ হলো হঠাৎ জ্বর। এর সঙ্গে তীব্র মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, শরীর ও পেশিতে ব্যথা এবং দুর্বলতা দেখা দিতে পারে। কারও কারও শরীরে লালচে র্যাশও দেখা যায়। তবে র্যাশ না থাকলেও ডেঙ্গু হতে পারে।
জ্বরের সঙ্গে এসব উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরীক্ষা করানো উচিত।
২. জ্বর হলে প্রাথমিকভাবে কী করবেন?
ডেঙ্গু সন্দেহ হলে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে হবে এবং শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি হতে দেওয়া যাবে না। পানি, খাবার স্যালাইন, স্যুপসহ পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ করা যেতে পারে। স্বাভাবিক খাবারও খেতে হবে, যদি খেতে কোনো সমস্যা না থাকে।
জ্বরকে সাধারণ ভাইরাল জ্বর ভেবে দীর্ঘ সময় অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো। বিশেষ করে জ্বরের সঙ্গে রক্তক্ষরণ, তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি বা অতিরিক্ত দুর্বলতার মতো লক্ষণ থাকলে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে।
৩. ওষুধ খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকুন
ডেঙ্গুতে জ্বর ও ব্যথা কমাতে সাধারণত চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্যারাসিটামল ব্যবহার করা হয়। তবে নিজের ইচ্ছায় অতিরিক্ত ওষুধ খাওয়া উচিত নয়।
অ্যাসপিরিন, আইবুপ্রোফেনসহ কিছু ব্যথানাশক ওষুধ রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই ডেঙ্গু সন্দেহ হলে এসব ওষুধ নিজে থেকে না খেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
একইভাবে প্লাটিলেট কমেছে শুনেই আতঙ্কিত হয়ে রক্ত বা প্লাটিলেট নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। রোগীর শারীরিক অবস্থা, রক্তক্ষরণ ও অন্যান্য পরীক্ষার ফল বিবেচনা করেই চিকিৎসক এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেন।
৪. কখন হাসপাতালে যেতে হবে?
ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে রোগীর অবস্থার দ্রুত পরিবর্তন হতে পারে। বিশেষ করে জ্বর কমে যাওয়ার সময়ও সতর্ক থাকতে হয়।
তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, নাক বা মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়া, বমি বা পায়খানায় রক্ত, অতিরিক্ত দুর্বলতা, অস্বাভাবিক ঘুমঘুম ভাব, শ্বাসকষ্ট, প্রস্রাব কমে যাওয়া, হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যাওয়া কিংবা রক্তচাপ কমে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে।
গুরুতর অবস্থায় রোগীকে নিবিড় পর্যবেক্ষণ বা আইসিইউ চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে।
৫. এডিস মশা থেকে কীভাবে বাঁচবেন?
ডেঙ্গুর প্রধান বাহক এডিস মশা। এই মশা সাধারণত দিনের বেলায় বেশি সক্রিয় থাকে। তাই দিনের বেলাতেও মশার কামড় থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখা জরুরি।
বাড়ির আশপাশে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, ডাবের খোসা, নির্মাণসামগ্রী, ছাদ, বারান্দা, ফ্রিজ বা এসির নিচে পানি জমে আছে কি না তা নিয়মিত দেখতে হবে।
এডিস মশা যাতে বংশবিস্তার করতে না পারে, সেজন্য জমে থাকা পানি দ্রুত অপসারণ এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করাই সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধের অন্যতম উপায়।
ডেঙ্গু নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। জ্বর বা অন্য কোনো উপসর্গ দেখা দিলে নিজে থেকে চিকিৎসা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরীক্ষা করানো উচিত।