রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার হাবাসপুরে প্রস্তাবিত পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের নির্মাণকাজ আগামী বছরের শুরুতে উদ্বোধন করা হবে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে পাংশার হাবাসপুরে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের প্রস্তাবিত এলাকা পরিদর্শনে এসে তিনি এ কথা জানান।
পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, আগামী বছরের জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি অথবা মার্চ মাসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজবাড়ীতে এসে পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণকাজের উদ্বোধন করবেন। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের ২৪ জেলার মানুষ সরাসরি এর সুফল ভোগ করবেন।
তিনি বলেন, পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি মাছের উৎপাদন বাড়বে এবং কৃষি খাতে ব্যাপক পরিবর্তন আসবে। এর ফলে দেশের অর্থনীতিও আরও সমৃদ্ধ হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ২০০৪ সালে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের বিস্তারিত সমীক্ষা করেছিলেন। দীর্ঘ সময় পর ২০২৬ সালে প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদন পেয়েছে। এখন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার সারা দেশে খাল পুনঃখননের কাজ করছে। নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী ইতোমধ্যে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল পুনঃখনন করা হয়েছে।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম, রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. হারুন-অর-রশিদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত ১৩ মে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক সভাপতি তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ‘পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প’ অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা। সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে পাঁচ বছর মেয়াদি এ প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের ২৪ জেলার প্রায় সাত কোটি মানুষ সরাসরি উপকৃত হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল ২০২৬ সাল থেকে জুন ২০৩৩ পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।