দেশের চলমান বিদ্যুৎ পরিস্থিতিতে লোডশেডিংয়ের চাপ কমানো, বিদ্যুৎ অপচয় রোধ এবং জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী। এর অংশ হিসেবে রংপুর জেলার বদরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রচারণা চালিয়ে সাধারণ মানুষকে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে উদ্বুদ্ধ করছেন আনসার-ভিডিপির সদস্যরা।
রংপুর জেলার বদরগঞ্জ পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড দলনেতার উদ্যোগে পরিচালিত এ প্রচারণায় বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, আবাসিক ভবন, দোকানপাট, হোটেল ও জনসমাগমস্থলে গিয়ে অপ্রয়োজনীয় বাতি, ফ্যান ও বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি বন্ধ রাখার বিষয়ে মানুষকে সচেতন করা হয়। এ সময় বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও জনসচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়।
আনসার-ভিডিপির সদস্যদের এ উদ্যোগে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া দেখা যায়। প্রচারণাকালে অনেকে তাৎক্ষণিকভাবে অপ্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিক বাতি, ফ্যানসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম বন্ধ করে দেন এবং সদস্যদের এ উদ্যোগের প্রশংসা করেন।
আনসার-ভিডিপির সদস্যরা বলেন, এ প্রচারণার উদ্দেশ্য শুধু লিফলেট বিতরণ নয়, বরং মানুষের মধ্যে এমন সচেতনতা তৈরি করা, যাতে তারা নিয়মিতভাবে বিদ্যুৎ অপচয় রোধে ভূমিকা রাখেন। একজন নাগরিকের ছোট্ট সাশ্রয়ী উদ্যোগ সম্মিলিতভাবে জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, বিদ্যুৎ সাশ্রয় শুধু সরকারের একার দায়িত্ব নয়, প্রত্যেক নাগরিকেরও দায়িত্ব রয়েছে। প্রয়োজনের অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার বন্ধ রেখে সরকারের উদ্যোগে সহযোগিতা করা প্রয়োজন।
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে জনসচেতনতা ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। জাতীয় স্বার্থে বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও অপচয় রোধে আনসার-ভিডিপির এ ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
ঘটনাস্থলে থাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বালিয়াডাঙ্গী জোনাল অফিসের এনফোর্সমেন্ট কো-অর্ডিনেটর নির্মল রায় ৫ ঘণ্টা পর পুলিশের সহযোগিতায় অতিরিক্ত বিল সংশোধন এবং ত্রুটিপূর্ণ মিটারগুলো বদলে দেওয়ার আশ্বাস দিলে পল্লী বিদ্যুতের কর্মকর্তাদের ছেড়ে দেন বিক্ষুব্ধ গ্রাহকরা।
পরে তিনি জানান, মাঠে না এসে ঘরে বসে মিটার রিডিং বসিয়েছিলেন আগে দায়িত্বে থাকা মিটার রিডার। তাকে বহিষ্কার করে নতুন লোককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনিই গ্রামে এসেছিলেন বিলের তথ্য সংগ্রহ করতে। তাকে গ্রামবাসী আটক করেছে। আমরা বিষয়গুলো অবগত। কয়েক মাসের মধ্যেই অতিরিক্ত বিলগুলো মিটার রিডিং এবং অফিসে জমা হওয়া মিটার রিডিং দেখে সমন্বয় করা হবে।
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বালিয়াডাঙ্গী জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. হামিদুল হক জানান, ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত। আমরা গ্রাহকদের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন এবং বিল সংক্রান্ত বিষয়গুলো সমাধানের চেষ্টা চলমান রেখেছি।