বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামে সরকারি রাস্তার উন্নয়নকাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় আশফাক হাওলাদার ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে। রাস্তার বাকি অংশ নিজেদের মালিকানাধীন জমির মধ্যে পড়েছে দাবি করে কাজে বাধা দেওয়ায় নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে এবং সরকারি রাস্তায় পাশ থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন করে রাস্তাটি চলাচলের অনুপযোগী করে ফেলছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।এতে ওই এলাকার ১০ থেকে ১৫টি পরিবার চলাচলে চরম দুর্ভোগে পড়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গোবিন্দপুর গ্রামের আলামিনের বাড়ি থেকে সামাদ কবিরাজের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তার উন্নয়নকাজ শুরু হয়। রাস্তার প্রায় অর্ধেক কাজ শেষ হওয়ার পর আশফাক হাওলাদার ও তার পরিবারের সদস্যরা বাধা দিলে কাজ বন্ধ হয়ে যায়।
রাস্তার কাজ বন্ধ থাকায় বর্ষার পানি ও কাদায় চলাচলের পথটি আরও দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতিদিন কাদা-পানি মাড়িয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে শিশু ও শিক্ষার্থীরা। বৃষ্টির সময় অনেকেই ঠিকমতো স্কুলে যেতে পারে না বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। রাস্তা না থাকায় বিদ্যুৎ বিহীন ভাবে দিন কাটছে পরিবার গুলোর।
স্থানীয় ভুক্তভোগীরা দ্রুত রাস্তার কাজ শেষ করে চলাচলের উপযোগী করার দাবি জানিয়েছেন।
প্রতিবেশী মো. মঞ্জু শেখ বলেন, এখানে প্রায় ১০ থেকে ১২টি পরিবার বসবাস করে। রাস্তার কারণে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে বৃষ্টির সময় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে যায়। দ্রুত রাস্তার কাজ শেষ করার দাবি জানান তিনি।
অভিযোগকারী সাগর বলেন, চলাচলের জন্য ভালো কোনো রাস্তা না থাকায় ছেলে-মেয়েদের স্কুলে যাতায়াতসহ দৈনন্দিন কাজে নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এলাকাবাসীর দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত রাস্তা নির্মাণের ব্যবস্থা করার দাবি জানান তিনি।
তবে রাস্তার কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার না করে আশফাক হাওলাদার মুঠোফোনে বলেন, ‘আমাদের মালিকানাধীন জমি দিয়ে কীভাবে রাস্তা হবে, ওর বাড়ি কোথায় এবং কীভাবে যাবে এসব বিষয় সরকার বুঝবে। চেয়ারম্যান-মেম্বাররা বুঝবেন, টেন্ডার করে।’
এ বিষয়ে রামপাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ তামান্না ফেরদৌসি বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর তারা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। সেখানে রাস্তা নির্মাণ নিয়ে কিছু জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। কারও ব্যক্তিগত জমির ওপর মালিকের অনুমতি ছাড়া রাস্তা নির্মাণ করা সম্ভব নয়। এ বিষয়ে জমির মালিকের সঙ্গে কয়েকবার বসে আলোচনা করে তাকে বোঝানোর চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু তিনি বিষয়টি মেনে নিতে বা সহযোগিতা করতে রাজি হননি।