জনস্বাস্থ্য, কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা ও পরিবেশ সুরক্ষায় রাজশাহীর বারাহী, নবগঙ্গা, স্বরমঙ্গলা ও বারনই নদীর দখল-দূষণ বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় নওহাটা ব্রিজ এলাকায় বারনই নদীর তীরে বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরাম, গ্রিন কোয়ালিশন, নওহাটা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি ও বারসিকের যৌথ উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে নদীপাড়ের বাসিন্দা, জেলে, কৃষক, নদী গবেষক, পরিবেশকর্মী ও বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, রাজশাহী নগরের বিভিন্ন ড্রেন-নালা দিয়ে তরল ও কঠিন বর্জ্য, মেডিকেল বর্জ্যসহ দূষিত পানি বারাহী, নবগঙ্গা ও স্বরমঙ্গলা নদী হয়ে বারনই নদীতে পড়ছে। এতে নদীর পানি দূষিত হওয়ার পাশাপাশি আশপাশের বিল ও কৃষিজমিতে দূষিত পানি প্রবেশ করছে। ফলে মাছ ও জলজ প্রাণীর সংখ্যা কমছে, কৃষিজমির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে এবং নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন হুমকির মুখে পড়ছে।
নদী গবেষক মাহবুব সিদ্দিকী বলেন, নদীগুলোর পানি কালচে ও দুর্গন্ধযুক্ত হয়ে পড়েছে। বর্জ্য ও প্লাস্টিক জমে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা জরুরি।
নওহাটা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু সামা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নদী দূষণের কথা বলা হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। দূষণের কারণে নদীতে মাছ কমে যাওয়ায় মৎস্যজীবীরা জীবিকা হারাচ্ছেন।
মানববন্ধন থেকে নদীর সীমানা চিহ্নিত করে দখল-দূষণমুক্ত করা, আধুনিক সিউয়েজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (STP) ও ইফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (ETP) স্থাপন, শিল্পকারখানা ও চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠানের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত, দূষণকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং নদী-বিলের পানি ও মাটির গুণগত মান পরীক্ষা করে ফলাফল প্রকাশসহ ছয় দফা দাবি জানানো হয়।
পরে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বরাবর স্মারকলিপি দেওয়া হয়। জেলা প্রশাসনের পক্ষে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহা. সবুর আলী এবং বিভাগীয় কমিশনারের পক্ষে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (শিক্ষা ও আইসিটি) ড. চিত্রলেখা নাজনীন স্মারকলিপি গ্রহণ করেন।
বক্তারা রাজশাহীর নদী, বিল, কৃষি ও প্রাণবৈচিত্র্য রক্ষায় দ্রুত জনদাবিগুলো বাস্তবায়নের দাবি জানান।