ঘরভাড়া দেওয়ার টাকা জোগাড় করতে নিজের মাথার চুল কেটে বিক্রি করতে বাধ্য হওয়া বাগেরহাটের রামপালের অসহায় নারী রেহানা খাতুনের পাশে দাঁড়িয়েছে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা। তার জন্য সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের একটি ঘর, খাদ্য ও নগদ অর্থ সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেওয়ারও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
তার দুর্দশার খবর গণমাধ্যমে প্রকাশের পর বিষয়টি পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলামের নজরে আসে। পরে তিনি রাষ্ট্রীয় কাজে এলাকার বাইরে থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে রামপাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) ওই নারীর পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ দেন।
প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী রবিবার বিকেলে রামপাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজ তামান্না ফেরদৌসী রেহানা খাতুনের কাছে ছুটে যান এবং রেললাইনের পাশে সরকারি জায়গায় অস্থায়ীভাবে অবস্থান নেওয়া রেহানার হাতে নগদ অর্থ তুলে দেন। একই সঙ্গে তার পরিবারের জন্য এক মাসের খাদ্যসামগ্রীও প্রদান করা হয়। এ সময় পরিবেশ প্রতিমন্ত্রীর পক্ষে তার ব্যক্তিগত কর্মকর্তা (পিএস) অপু রায়হান’সহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
৩০ বছর বয়সী রেহানা’র মাথা গোঁজার স্থায়ী আশ্রয় না থাকায় রামপাল উপজেলার সন্তোষপুর এলাকায় খুলনা-মোংলা রেললাইনের পাশে চার বছরের ছেলে রোহান ও তিন বছরের মেয়ে আলোমতিকে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চরম দারিদ্র্যের মধ্যে জীবনযাপন করছিলেন।সম্প্রতি রেহানা’র মানবেতর জীবনযাপন ও ঘরভাড়া পরিশোধের জন্য নিজের মাথার চুল বিক্রি করার খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের নজরে আসে এবং তা স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে।
এ বিষয়ে রামপাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ তামান্না ফেরদৌসী বলেন, সম্প্রতি অভাব-অনটনের কারণে রামপালের সন্তোষপুর গ্রামের অসহায় নারী রেহানা খাতুন নিজের মাথার চুল বিক্রি করেন। বিষয়টি পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলামের নজরে আসার পর তিনি দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেন। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী রেহানাকে নগদ অর্থ ও খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, তাৎক্ষণিক সহায়তায় রেহানা ও তার দুই সন্তান কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন। তাদের দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। নিরাপদ আবাসন, নিয়মিত আয়ের ব্যবস্থা এবং দুই শিশুর শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে স্থায়ী উদ্যোগ নেওয়া হবে।