২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে নিজের উপস্থিতি জোরালোভাবে জানান দিচ্ছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। টুর্নামেন্টে ধীরগতির সূচনার পর অবশেষে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে আলোচনায় ফিরেছেন পর্তুগিজ মহাতারকা। গ্রুপ ‘কে’-তে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করে তিনি বিশ্বকাপ ইতিহাসে সবচেয়ে বয়স্ক খেলোয়াড় হিসেবে এক ম্যাচে দুই গোল করার নতুন রেকর্ড গড়েছেন।
এর আগে এই রেকর্ডটি ছিল লিওনেল মেসির দখলে। আর্জেন্টাইন অধিনায়ক ৩৮ বছর ৩৬৩ দিন বয়সে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে দুই গোল করে কীর্তিটি গড়েছিলেন। তবে সেই রেকর্ড মাত্র একদিন স্থায়ী হয়। উজবেকিস্তানের বিপক্ষে অসাধারণ নৈপুণ্য দেখিয়ে রোনালদো রেকর্ডটি নিজের করে নেন।
একই সঙ্গে এবারের বিশ্বকাপে নিজের প্রথম গোলও পেয়ে যান রোনালদো। এর মাধ্যমে তিনি বিশ্বকাপের আরেকটি বিশেষ পরিসংখ্যানে মেসির ওপর নিজের ব্যবধান আরও বাড়িয়েছেন—যে রেকর্ডে আর্জেন্টাইন তারকার পক্ষে আর পৌঁছানো সম্ভব নয় বলে মনে করা হচ্ছে।
দুই দশকেরও বেশি সময় আগে বিশ্বকাপে অভিষেক হওয়া দুই কিংবদন্তি ফুটবলার এখনো বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরের প্রধান আকর্ষণ। বয়স বাড়লেও তাদের পারফরম্যান্সে তার কোনো প্রভাব পড়েনি।
বর্তমানে দুই ম্যাচে পাঁচ গোল করে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন লিওনেল মেসি। অন্যদিকে শুরুতে কিছুটা সময় নিলেও রোনালদো ধীরে ধীরে নিজের সেরা ছন্দে ফিরছেন। মেসি শুরু থেকেই দুর্দান্ত খেললেও রোনালদোর সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স পর্তুগালের সমর্থকদের নতুন করে আশাবাদী করে তুলেছে।
এদিকে মেসি বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায়ও শীর্ষে উঠে এসেছেন। তিনি জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসের রেকর্ড ভেঙেছেন। যদিও এই দৌড়ে রোনালদো কিছুটা পিছিয়ে আছেন, তবে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে তার পারফরম্যান্স প্রমাণ করে যে তিনি এখনো গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী। পাশাপাশি কিলিয়ান এমবাপ্পে ও হ্যারি কেইনের মতো তারকারাও এই প্রতিযোগিতায় রয়েছেন।
ফুটবলপ্রেমীরা দীর্ঘদিন ধরে মেসি ও রোনালদোকে একের পর এক অসম্ভব মনে হওয়া রেকর্ড ভাঙতে দেখেছেন। ২০২৬ বিশ্বকাপ এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। ফলে টুর্নামেন্ট যত এগোবে এবং আর্জেন্টিনা ও পর্তুগাল যত দূর যাবে, ততই নতুন নতুন রেকর্ডের সাক্ষী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ফুটবল বিশ্বে একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে থাকা মেসি ও রোনালদো আবারও নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে নেমেছেন। অনেকের ধারণা, এটি তাদের ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ হতে পারে। তাই দেশকে সাফল্য এনে দেওয়ার পাশাপাশি একে অপরের রেকর্ড ভাঙার লক্ষ্যেও সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাবেন এই দুই কিংবদন্তি।