ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় কেরালা রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনা চলছে। সোমবার (৪ মে) স্থানীয় সময় সকাল ৮টায় কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে শুরু হয় ভোট গণনা। গণনা শুরু হতেই চমকপ্রদ চিত্র উঠে এসেছে।
জাতীয় রাজনীতিতে শক্ত অবস্থানে থাকা বিজেপি সেখানে মাত্র দুটি আসনে এগিয়ে রয়েছে, বিপরীতে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ জোটের শরিক ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লীগ একাই ২৩টি আসনে এগিয়ে রয়েছে। এই ফলাফল রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে বড় বার্তা দিচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনের বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে বলছে, কেরালার বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্টের (ইউডিএফ) গুরুত্বপূর্ণ শরিক ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লীগ ২৩টি আসনে এগিয়ে রয়েছে।
যে আসনগুলোতে দলটি এগিয়ে রয়েছে সেগুলো হলো: মাঞ্জেশ্বরম, কাসারগোড, কুট্টিয়াদি, পেরাম্ব্রা, কোঝিকোড দক্ষিণ, কুন্নামাঙ্গালাম, কোডুভালি, তিরুভাম্বাদি, কন্ডোট্টি, এরনাড, মানজেরি, পেরিন্থালমান্না, মানকাডা, মালাপ্পুরম, ভেঙ্গারা, ভাল্লিক্কুন্নু, তিরুরাঙ্গাড়ি, তানুর, তিরুর, কোট্টাক্কাল, মান্নারক্কাড, গুরুভায়ুর ও কালামাসেরি।
ভারতের নির্বাচন কমিশনের তথ্য ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্থানীয় সময় বেলা ১টা পর্যন্ত পাওয়া ফলে দেখা যাচ্ছে, কেরালার ১৪০ আসনের বিধানসভায় কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ ৯৮টি আসনে এগিয়ে রয়েছে। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন লেফট ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট (এলডিএফ) এগিয়ে আছে ৩৬টি আসনে। এ ছাড়া বিজেপি নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক অ্যালায়েন্স (এনডিএ) ২টি আসনে এগিয়ে রয়েছে।
ভোটগ্রহণের পর বেশিরভাগ বুথফেরত জরিপেই অবশ্য কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ জোটের জয়ের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের নেতৃত্বাধীন এলডিএফ এবার টানা তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় আসার লক্ষ্যে লড়াই করছে। এর আগে ২০২১ সালের নির্বাচনে এলডিএফ ৯৯টি আসন পেয়ে ৪৪ বছরের রেকর্ড ভেঙে টানা দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় এসেছিল। সেবার ইউডিএফ পেয়েছিল ৪১টি আসন।
কেরালার রাজনীতিতে মূলত বামপন্থি এলডিএফ এবং ইউডিএফের মধ্যেই মূল লড়াই হয়ে থাকে। এদিকে ভোটগণনার বর্তমান প্রবণতার মধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়া থেকে মুখ্যমন্ত্রী পরিচয় মুছে ফেলেছেন পিনারাই বিজয়ন। সমগ্র ভারতের মধ্যে এতদিন একমাত্র কেরালাতেই ক্ষমতায় ছিল বামেরা।