দ্রুত ঊর্ধ্বমুখী মূল্যস্ফীতি, আন্তর্জাতিক চাপ এবং চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যে ইরানের অর্থনীতি ক্রমেই কঠিন সংকটে পড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে সংঘাত, দীর্ঘস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা এবং অভ্যন্তরীণ দুর্বল ব্যবস্থাপনার প্রভাবে দেশটির সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা এখন তীব্র চাপে। কর্মসংস্থান সংকুচিত হওয়ায় বিপুলসংখ্যক মানুষ চাকরি হারিয়ে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন।
দেশটিতে খাদ্যপণ্য, ওষুধ, যানবাহন, ইলেকট্রনিকস ও পেট্রোকেমিক্যাল সামগ্রীসহ প্রায় সব ধরনের পণ্যের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারে নতুন করে মূল্যবৃদ্ধি জনমনে উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, অবকাঠামোর ওপর হামলা, নৌপথে চাপ, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এবং রাজধানী তেহরানে দীর্ঘদিনের কঠোর ইন্টারনেট সীমাবদ্ধতা সব মিলিয়ে ৯ কোটির বেশি মানুষের দেশটির অর্থনৈতিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
ইরানের মুদ্রা রিয়ালের দরও বড় ধাক্কা খেয়েছে। খোলা বাজারে মার্কিন ডলারের বিপরীতে রিয়াল ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে, ফলে বাজারে লেনদেন ও বিনিয়োগে অনিশ্চয়তা বেড়েছে।
বাজার পরিস্থিতি এতটাই অস্থির যে ব্যবসায়ী ও ক্রেতা উভয় পক্ষই ভবিষ্যৎ নিয়ে দ্বিধায়। সরবরাহ সংকটের কারণে অনেক বিক্রেতা দ্রুত দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোর উচ্চ মূল্যস্ফীতির সময়েও তুলনামূলক বিরল ছিল।
প্রযুক্তিপণ্যেও দেখা যাচ্ছে বড় ধরনের মূল্যবৈষম্য। যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১ হাজার ২০০ ডলারের একটি আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্স তেহরানের বাজারে দ্বিগুণেরও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে, আবার অনেক দোকান পণ্য মজুত রেখেও বিক্রি করতে অনাগ্রহী।
গাড়ির বাজারেও একই অবস্থা। দেশীয়ভাবে উৎপাদিত জনপ্রিয় মডেলের দামও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। আমদানিকৃত গাড়ির ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও কঠিন প্রতিবেশী দেশের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে এসব যানবাহন।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম প্রতিদিন গাড়ির দাম বাড়ার কথা স্বীকার করলেও এর পেছনে বাজারে আতঙ্ক ও অতিরিক্ত মুনাফার প্রবণতাকে দায়ী করছে।
এদিকে, ন্যূনতম মজুরি বাড়ানো হলেও তা ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতির তুলনায় অনেকটাই অপ্রতুল। সরকারি ভর্তুকিও সাধারণ মানুষের ব্যয় সংকট পুরোপুরি সামাল দিতে পারছে না।
সূত্র: আল জাজিরা