আগামী ৫ মে চীন সফরে যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আসন্ন চীন সফরকে ঘিরে কূটনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এটি বাংলাদেশের অর্থনীতি, উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানিয়েছে, এ সফরে দুই দেশের সম্পর্কের সামগ্রিক পর্যালোচনার পাশাপাশি অর্থনৈতিক সহযোগিতা, উন্নয়ন প্রকল্প এবং আঞ্চলিক ইস্যুতে গুরুত্ব দেওয়া হবে। একই সাথে জাতিসংঘে সভাপতি নির্বাচনে চীনের সমর্থন কামনা করবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
পররাষ্ট্র মন্তণালয় সূত্র জানায়, সফরের অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয় হতে পারে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি। চীন বাংলাদেশের অন্যতম বড় উন্নয়ন অংশীদার হওয়ায়, চলমান অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় চীনা বিনিয়োগ ও সম্ভাব্য আর্থিক সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে অবকাঠামো, জ্বালানি ও উৎপাদন খাতে নতুন বিনিয়োগের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হবে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-এর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের কথা রয়েছে।
বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনসিয়েটিভ-এর আওতায় বাস্তবায়িত বিভিন্ন প্রকল্প, তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা এবং মোংলা বন্দর উন্নয়নসহ সফরে চলমান বড় প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি নিয়েও আলোচনা হবে বলে জানা গেছে।
এই সফরকে বাংলাদেশের ‘ব্যালান্সড ফরেন পলিসি’র অংশ হিসেবে দেখছেন কূটনীতিকরা। একদিকে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার, অন্যদিকে পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে ভারসাম্য বজায় রাখার কৌশল অব্যাহত থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এসব প্রকল্পে গতি এলে দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
সূত্র জানায়, পররাষ্ট্র মন্ত্রীর এই সফরে রোহিঙ্গা সংকটও গুরুত্ব পেতে পারে। বিশেষ করে মিয়ানমারের ওপর চীনের প্রভাব থাকায়, প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় বেইজিংয়ের সক্রিয় ভূমিকা কামনা করছে ঢাকা। তবে এ ক্ষেত্রে দ্রুত অগ্রগতি নিয়ে সংশয়ও রয়েছে।