বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৪৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধবিরতি: চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব ও বাংলাদেশের জন্য চ্যালেঞ্জ উচ্ছেদের তালিকায় ৯৫ শতাংশই মুসলিম, নন্দীগ্রামে সাম্প্রদায়িক বৈষম্যের ভয়াবহ চিত্র এ বছর মার্কিন নাগরিকদের হজে না যাওয়ার পরামর্শ দূতাবাসের পহেলা বৈশাখে পান্তা-ইলিশ : লোকজ ঐতিহ্য নাকি শহুরে প্রথা? সুস্থ জীবনের মূলমন্ত্র নিয়মিত ব্যায়াম গরু বলে ঘোড়ার মাংস বিক্রি, জবাই করা ১৪ ঘোড়া উদ্ধার ইসরায়েল হামলা চালালেও যুদ্ধবিরতিতে রাজি হিজবুল্লাহ যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল ‘শোচনীয় পরাজয়’ বরণ করেছে : রাশিয়া ১৬৫ কোটি ৭৬ লাখ টাকার চোরাচালান পণ্য জব্দ : বিজিবি হাতিরঝিলে বাসা থেকে শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

উচ্ছেদের তালিকায় ৯৫ শতাংশই মুসলিম, নন্দীগ্রামে সাম্প্রদায়িক বৈষম্যের ভয়াবহ চিত্র

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬

নন্দীগ্রামে জমি অধিগ্রহণ এবং উচ্ছেদের ঘটনায় সাম্প্রদায়িক বৈষম্যের এক ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, নন্দীগ্রামের ‘স্পেশাল ইনভেস্টমেন্ট রিজন’ (SIR) এলাকায় মোট জনসংখ্যার মাত্র ২৫ শতাংশ মুসলিম হলেও, ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ হওয়া মানুষের মধ্যে ৯৫ শতাংশই এই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, উন্নয়নের নামে যে উচ্ছেদ প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে, তাতে নির্দিষ্ট একটি সম্প্রদায়কে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করা সত্ত্বেও কোনো রকম উপযুক্ত পুনর্বাসন বা ক্ষতিপূরণ ছাড়াই তাঁদের সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। যেখানে অ-মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে উচ্ছেদের হার তুলনামূলকভাবে অনেক কম, সেখানে মুসলিম প্রধান পাড়াগুলোতে বুলডোজার বা উচ্ছেদ নোটিশের দাপট অনেক বেশি।

সামাজিক ও মানবাধিকার কর্মীরা এই পরিসংখ্যানকে ‘পরিকল্পিত উচ্ছেদ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাঁদের মতে, সরকারি বা বিশেষ অর্থনৈতিক প্রকল্পের আড়ালে একটি নির্দিষ্ট জনবিন্যাসকে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা চলছে। নন্দীগ্রাম, যা একসময় জমি আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু ছিল, সেখানে নতুন করে এই উচ্ছেদ আতঙ্ক সাধারণ মানুষের মনে ক্ষোভের সৃষ্টি করছে।

যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, উন্নয়ন প্রকল্পের নকশা অনুযায়ীই জমি চিহ্নিত করা হয়েছে এবং এতে কোনো ধর্মীয় বা সাম্প্রদায়িক অভিসন্ধি নেই। তবে ৯৫ শতাংশের এই পরিসংখ্যান প্রশাসনের সেই দাবিকে বড়সড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।

ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর অভিযোগ, বছরের পর বছর যে জমিতে তাঁরা চাষবাস করে জীবিকা নির্বাহ করেছেন, আজ উন্নয়নের দোহাই দিয়ে তাঁদের সেখান থেকে উৎখাত করা হচ্ছে। কোনো বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন কয়েকশ পরিবার।

এই বৈষম্যমূলক উচ্ছেদের প্রতিবাদে আগামী দিনে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্থানীয় জমি রক্ষা কমিটির নেতৃবৃন্দ। পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলেও এই প্রতিবেদনটি নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102