বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও কর্মচারীদের বহুল প্রত্যাশিত বদলি কার্যক্রম এখনো শুরু হচ্ছে না। সংশ্লিষ্টদের আশ্বস্ত করতে না পেরে শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় সফটওয়্যারে তথ্য অন্তর্ভুক্তির কাজ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত এ কার্যক্রম চালু করা সম্ভব নয়।
বুধবার (৮ এপ্রিল) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের একটি সূত্র জানায়, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরকে (মাউশি) একাধিকবার তাগিদ দেওয়া হলেও এখনো শিক্ষক-কর্মচারীদের তথ্য নির্ধারিত সফটওয়্যারে আপলোড করা হয়নি। ফলে বদলি প্রক্রিয়া কার্যকর করার পথ আটকে আছে।
অন্যদিকে, মাউশি জানিয়েছে সফটওয়্যারে তথ্য সংযোজনের আগে মাঠপর্যায়ে শিক্ষক-কর্মচারীদের তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। এর পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও অন্যান্য কর্মচারীদের তথ্যও সিস্টেমে যুক্ত করা জরুরি। এসব প্রস্তুতিমূলক কাজ শেষ না হলে তথ্য ইনপুট শুরু করা সম্ভব নয়। ফলে কবে নাগাদ বদলি কার্যক্রম চালু হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা দিতে পারছেন না সংশ্লিষ্ট কেউই।
এ বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (বেসরকারি মাধ্যমিক) মো. মিজানুর রহমান বলেন, মাউশিকে সফটওয়্যারে তথ্য অন্তর্ভুক্তির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং অগ্রগতির বিষয়ে তারাই বিস্তারিত জানাতে পারবে।
মাউশির উপ-পরিচালক (মাধ্যমিক) মো. ইউনুছ ফারুকী জানান, বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের বদলি কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে। তবে তথ্য সংযোজনের আগে কিছু কাজ বাকি থাকায় পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সময় লাগবে।
জানা গেছে, বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) কর্তৃক সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকদের আগে সরাসরি বদলির সুযোগ ছিল না। তারা গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নতুন প্রতিষ্ঠানে আবেদন করে বদলির সুযোগ পেতেন। প্রথম তিনটি গণবিজ্ঞপ্তিতে এ সুযোগ থাকলেও চতুর্থ গণবিজ্ঞপ্তি থেকে তা বন্ধ করে দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে শিক্ষকদের আন্দোলনের মুখে বদলি চালুর উদ্যোগ নেয় সরকার এবং একটি নীতিমালাও প্রণয়ন করা হয়। কিন্তু আইনি জটিলতা, সফটওয়্যার প্রস্তুতিতে বিলম্ব এবং নীতিমালা সংশোধনসহ নানা কারণে এখনো কার্যক্রমটি শুরু করা যায়নি। সর্বশেষ সংশোধিত নীতিমালা জারি হলেও সংশ্লিষ্ট তথ্যব্যবস্থা পুরোপুরি প্রস্তুত না থাকায় বদলি কার্যক্রম নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।