মন্ত্রী বলেন, বিশ্ব ইতিহাসে বিভিন্ন সংকট নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতেও শিক্ষাব্যবস্থাকে থামিয়ে না রেখে নতুন পদ্ধতিতে এগিয়ে নিতে হবে। অতীতে বিশ্বযুদ্ধ, প্রযুক্তিগত পরিবর্তন এবং সামাজিক রূপান্তরের মতো ঘটনাগুলো নতুন শিল্প ও সুযোগ সৃষ্টি করেছে। একইভাবে বর্তমান জ্বালানি সংকট, যানজট এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থাকেও নতুনভাবে ভাবতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতের শিক্ষা হবে প্রযুক্তিনির্ভর এবং অনেকাংশে পেপারলেস। সংসদ থেকে শুরু করে শ্রেণিকক্ষ সব জায়গায় ডিজিটাল ব্যবস্থার ব্যবহার বাড়বে। শিক্ষার্থীদেরও সেই বাস্তবতার জন্য প্রস্তুত করতে হবে।
জ্বালানি সাশ্রয় এবং যানজট কমাতে নির্দিষ্ট কিছু মানসম্পন্ন বা সক্ষম স্কুলে পরীক্ষামূলকভাবে অনলাইন-অফলাইন সমন্বিত ক্লাস চালুর পরিকল্পনার কথা জানান মন্ত্রী।
তিনি বলেন, সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একযোগে নয়; বরং যেসব প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা আছে সেসব স্কুলে পাইলট প্রকল্প হিসেবে এটি চালু করা যেতে পারে। প্রস্তাবিত মডেলে সপ্তাহজুড়ে কিছুদিন অনলাইন এবং কিছুদিন অফলাইন ক্লাস থাকবে। এতে শিক্ষার্থীদের শারীরিক উপস্থিতি কমবে, ফলে ট্রাফিক চাপ ও জ্বালানি ব্যবহার হ্রাস পাবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত পাঠক্রমের মধ্যেই থাকবে।
শিক্ষকদের ভূমিকাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, অনলাইন ক্লাস কার্যকর করতে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও তদারকি বাড়াতে হবে। শিক্ষার্থীরা যাতে অনলাইনে মনোযোগী থাকে সে বিষয়েও নজরদারি প্রয়োজন। সরকার ইতোমধ্যে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে, যেমন এয়ার কন্ডিশনারের তাপমাত্রা নির্ধারণ, অফিস সময়সূচিতে পরিবর্তন ইত্যাদি। পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎ এবং বৈদ্যুতিক পরিবহনের ব্যবহার বাড়ানোর দিকেও জোর দেওয়া হচ্ছে।
নতুন প্রজন্মকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকিয়ে রাখতে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থার কোনো বিকল্প নেই। এজন্য সরকার ধাপে ধাপে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে এবং পরীক্ষামূলক উদ্যোগের মাধ্যমে তা বাস্তবায়ন করা হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, বর্তমানে পুরো বিশ্ব একটি সংকটময় পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বর্তমান সরকার এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনগণের কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী একজন বিচক্ষণ ব্যক্তি এবং তিনি দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা খাতে কাজ করে যাচ্ছেন। আমরা সবাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দেশের কল্যাণে কাজ করছি। আমরা আপনাদের সরকার; আপনারা যা বলবেন, আমরা তা শুনব। সেই উদ্দেশ্যেই আজকের এই আয়োজন। সকলের সহযোগিতায় আমরা বর্তমান সংকট কাটিয়ে উঠতে কাজ করছি।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আব্দুল খালেকের সভাপতিত্বে সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য দেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর বি. এম. আব্দুল হান্নান। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া।







