বিতর্কের সূত্রপাত
ঘটনাটি শুরু হয় যখন মুকেশ মোহন তার একটি ভিডিওতে ‘দ্য ক্যারাভ্যান’ (The Caravan) ম্যাগাজিনে প্রকাশিত একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন পাঠ করেন। এর পরেই মন্ত্রীর পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হয় এবং অভিযোগ উঠেছে যে, মুকেশের ফোন জব্দ করার পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে এফআইআর-ও দেওয়া হয়েছে।
মূল অভিযোগ
‘র্যাম্বল এগ্রো’ সংযোগভিডিওতে উপস্থাপিত তথ্যানুযায়ী, ‘র্যাম্বল এগ্রো অ্যান্ড ফুডস’ (Rambull Agro and Foods) নামক একটি কোম্পানির সাথে গড়করি পরিবারের ব্যবসায়িক যোগসূত্র রয়েছে। এই কোম্পানির বিরুদ্ধে অভিযোগ গুলো হলো:গরুর মাংস রপ্তানি: কোম্পানিটি সংযুক্ত আরব আমিরাত, ভিয়েতনাম এবং ওমানের মতো দেশগুলোতে বিফ বা গরুর মাংস রপ্তানি করে থাকে।
পরিচালনা পর্ষদের যোগসূত্র
গড়করি পরিবারের ইথানল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ‘সিএন এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ’-এর সাথে এই মাংস রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। সিএন এগ্রোর ম্যানেজিং ডিরেক্টর হলেন নীতিন গডকরির ছেলে নিখিল গডকরি। অভিযোগ আছে যে, র্যাম্বল এগ্রোর বর্তমান এমডি আগে সিএন এগ্রোর ডিরেক্টর ছিলেন।
আর্থিক সুবিধা
দাবি করা হয়েছে যে, ওই বিফ রপ্তানিকারক কোম্পানিটি একটি সমবায় ব্যাংক থেকে বিশাল অংকের লোন পেয়েছে, যে ব্যাংকের ডিরেক্টর খোদ নীতিন গডকরির স্ত্রী।
দুবাই এক্সপো বিতর্ক
দুবাইতে অনুষ্ঠিত ‘গালফফুড ফেস্টিভ্যাল’-এ নীতিন গডকরি র্যাম্বল সংশ্লিষ্ট একটি স্টল পরিদর্শন করেছিলেন। ভিডিওতে দাবি করা হয়েছে যে, সেই সময়ে তোলা ছবিতে মাংসের লোগোগুলো কৌশলে ঢেকে রাখা হয়েছিল।
মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও আইনি পদক্ষেপ বিশ্লেষক ধ্রুব রাঠিও তার ভিডিওতে প্রশ্ন তুলেছেন যে, ‘দ্য ক্যারাভ্যান’ ম্যাগাজিন এই প্রতিবেদনটি প্রথম প্রকাশ করলেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা করা হয়নি।
পরিবর্তে একজন একক কন্টেন্ট ক্রিয়েটরকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের আইনি পদক্ষেপের ফলে খবরটি দমে যাওয়ার বদলে উল্টো কোটি কোটি মানুষের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে, যাকে তারা ‘বিপরীত ফল’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
ভারত সরকারের একজন প্রভাবশালী মন্ত্রীর পরিবারের সাথে বিফ বা গরুর মাংস ব্যবসার সংশ্লিষ্টতার এই অভিযোগ রাজনৈতিক মহলেও চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। একদিকে মন্ত্রীপক্ষ এই দাবিকে ভিত্তিহীন ও মানহানিকর বলছে, অন্যদিকে নেটিজেনরা ‘আই স্ট্যান্ড উইথ মুকেশ মোহন’ হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে মত প্রকাশের স্বাধীনতার পক্ষে সওয়াল করছেন।পুরো ভারত জুড়ে একটি হ্যাশট্যাগ ট্রেন্ড করছে ।