ইরান-ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাত ৩২ দিনে পৌঁছেছে। একের পর এক পাল্টাপাল্টি হামলায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে গোটা বিশ্ব। বিশ্ব এখন কেবল যুদ্ধের পরবর্তী ধাপ ও শান্তি আলোচনা নিয়েই ব্যস্ত। এরই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান গুগল, মেটা (ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপের মূল প্রতিষ্ঠান), অ্যাপলসহ ১৮টির বেশি প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে হামলার হুমকি দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি।
এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানিয়েছে, ১ এপ্রিল স্থানীয় সময় রাত ৮টা থেকে এই মার্কিন প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর হামলা শুরু হতে পারে। কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত প্রাণহানি এড়াতে মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের এবং সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত কার্যালয় খালি করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, ইরানের এই হুমকিকে দেশটির সামরিক কৌশলের এক বড় ধরনের পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। আগে যেখানে শুধু সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু করা হতো, এখন সেখানে সিলিকন ভ্যালির প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানগুলোকেও অন্তর্ভুক্ত করা হলো।
আইআরজিসি জানিয়েছে, যেহেতু লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ ও শনাক্তের মূল উপাদানগুলো মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর তৈরি, তাই এখন থেকে এই প্রতিষ্ঠানগুলো বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচিত হবে।
এএফপির তথ্যমতে, ইরানের এ তালিকায় ১৮টির বেশি প্রতিষ্ঠানের নাম রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে মেটা (ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপের মূল প্রতিষ্ঠান), গুগল, অ্যাপল, মাইক্রোসফট, ইন্টেল, ওরাকল, এনভিডিয়া, ডেটা অ্যানালিটিকস ফার্ম প্যালানটিয়ার, বোয়িং ও টেসলা।
আইআরজিসি জানিয়েছে, ইসরায়েল ও মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে গত কয়েক সপ্তাহে ইরানের সর্বোচ্চ নেতাসহ ২৫০ জনের বেশি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। নতুন করে যদি আর কোনো ইরানের নেতাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়, তবে এই প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানগুলোকে পরিণাম ভোগ করতে হবে।