বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:০৬ পূর্বাহ্ন

এপ্রিলে আরও তীব্র সঙ্কট হবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের আবহেই বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট আরও গুরুতর রূপ নিতে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ক্রমশ বাড়ছে এবং এর নেতিবাচক প্রভাব এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও পরিবহণ খাতে পড়তে শুরু করেছে। বিশেষত হরমুজ প্রণালির বন্ধ রাখা বিশ্ব তেল সরবরাহকে বড়সড়ভাবে ব্যাহত করছে।

তেল রপ্তানির অন্যতম প্রধান নালী হরমুজ প্রণালি বিশ্ববাজারে তেলের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত হয়। কিন্তু ২ মার্চ থেকে ইরান এই প্রণালি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে, ফলে দৈনিক তেলের সরবরাহ প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল কমে গেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানাচ্ছেন। এতে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ঘাটতি এবং মূল্যবৃদ্ধি বেগবান হয়েছে।

এদিকে হরমুজ প্রণালীর বিষ্ময়কর পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইরান সম্প্রতি জানিয়েছে যে, বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, রাশিয়া ও ইরাককে এই প্রণালী ব্যবহার করার অনুমতি দেয়। এর ফলে হরমুজ পারাপারের জন্য বর্তমানে বাংলাদেশের ৬টি জাহাজের অনুমোদনের অপেক্ষা রয়েছে।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ)-র প্রধান ফাতি বিরোল বলেছেন, এপ্রিল মাসে তেলের সরবরাহে ক্ষতি মার্চের তুলনায় দ্বিগুণ হবে এবং এতে এলএনজি (তরলায়িত গ্যাস) ক্ষতির প্রভাবও যুক্ত হবে। যদিও বর্তমানে সবচেয়ে বড় সমস্যা জেট ফুয়েল ও ডিজেলের ঘাটতি, আমরা এশিয়ায় তা লক্ষ্য করছি, এবং শীঘ্রই এটি ইউরোপেও ছড়িয়ে পড়বে।

গত মাসে আইইএ জানিয়েছিল যে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের কারণে তেল সরবরাহে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে এবং ঘাটতি মোকাবিলায় তারা কৌশলগত মজুত থেকে রেকর্ড পরিমাণ তেল বাজারে ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। কিন্তু এ লক্ষ্যমাত্রা সম্পূর্ণভাবে অর্জিত হয়নি বলে স্বীকার করেছেন ফাতি বিরোল।

হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ব রাজনীতিতেও উত্তেজনা বাড়ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যদি প্রণালি খোলা না হয়, তাহলে ইরানের তেল ক্ষেত্র, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও খার্গ দ্বীপকে ধ্বংস করা হবে বলে হুমকি দিয়েছেন। তবে ইরান তেহরান এই ধ্বংসাত্মক হুমকির পরও নড়াচড়া করছে না।

অন্যদিকে প্রণালিটি বন্ধ থাকার কারণে কুয়েত, ইরাকসহ উপসাগরীয় অনেক তেল রপ্তানিকারক দেশ তাদের উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে, কারণ প্রণালী না থাকায় তাদের তেল রপ্তানির উপায় নেই।

বিশ্লেষকদের মতে, চলমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে এবং এর নেতিবাচক প্রভাব সাধারণ মানুষের জীবন ও শিল্প খাতে ব্যাপকভাবে পড়বে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102