তীব্রতা বেড়ে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের হামলা পঞ্চম সপ্তাহে গড়াল।তেহরানে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য স্থল হামলার আশঙ্কা ও হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনার মধ্যে বিশ্ববাজারে আবারও তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।
সোমবার (৩০ মার্চ) সকালে বৈশ্বিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৩ শতাংশের বেশি বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১৬ ডলার ছাড়িয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক এই সূচকটি গত ১৯ মার্চের পর সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছে। সে সময় এটি সাময়িকভাবে ১১৯ ডলার ছুঁয়েছিল।
যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তেলের দাম প্রায় ৬০ শতাংশ বেড়েছে। এতে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম বেড়েছে এবং অনেক দেশ জরুরিভিত্তিতে জ্বালানি সাশ্রয়ী পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ চলাচল ফিরে না এলে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। আর এটি গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় জ্বালানি সংকট তৈরি করেছে।
সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা বলছে, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধ একাধিক ফ্রন্টে বিস্তৃত হওয়ায় তেলের দাম প্রায় দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এতে বৈশ্বিক অর্থনীতি নতুন করে চাপের মুখে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
দামের এই উল্লম্ফন এমন সময় ঘটল যখন ইরান জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য স্থল হামলার জন্য প্রস্তুত। দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার সতর্ক করে বলেছেন, মার্কিন সেনারা এলে তাদের ‘আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া’ হবে এবং আঞ্চলিক মিত্রদেরও ‘শাস্তি দেওয়া’ হবে।
এদিকে এশিয়ার প্রধান শেয়ারবাজারগুলোতেও বড় পতন দেখা গেছে। জাপানের নিক্কেই ২২৫ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কোসপি সূচক সোমবার সকালে ৪ শতাংশের বেশি কমে যায়।