মধ্যপ্রাচ্যের অন্তত পাঁচটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে গত ২৪ ঘণ্টায় দফায় দফায় বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে ইরান। এতে ওই অঞ্চলের দেশগুলোর অর্থনীতি ও জনজীবন চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী জানিয়েছে, তারা সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনের গুরুত্বপূর্ণ অ্যালুমিনিয়াম স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। এই পাল্টাপাল্টি হামলা শুধু সামরিক উত্তেজনাই নয়, বৈশ্বিক শিল্প ও সরবরাহ ব্যবস্থার ওপরও নতুন করে চাপও তৈরি করছে।
আবুধাবিতে অবস্থিত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ‘এমিরেটস গ্লোবাল অ্যালুমিনিয়াম’ (ইজিএ) জানিয়েছে, তাদের প্রধান কারখানায় ভয়াবহ হামলা হয়েছে। এতে স্থাপনাটির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে এবং বেশ কয়েকজন কর্মী আহত হয়েছেন।
একই সময়ে হামলার শিকার হয়েছে বাহরাইনে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদক প্রতিষ্ঠান ‘অ্যালুমিনিয়াম বাহরাইন’। সেখানেও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
কুয়েতেও বড় হামলার খবর পাওয়া গেছে। কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রাডার ব্যবস্থা লক্ষ্য করে চালানো এ হামলাতেও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এতে বিমান চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
শনিবার (২৮ মার্চ) ওমানের দক্ষিণে সালালাহ বন্দরে দুটি ড্রোন আঘাত হেনেছে। এই হামলায় একজন বিদেশি কর্মী আহত হয়েছেন।ওমানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ এই হামলার দায় স্বীকার করেনি। এরই মধ্যে হামলার তদন্ত শুরু হয়েছে।
দুবাই থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক জেইন বাসরাভি জানিয়েছেন, ‘বিশ্বের মোট অ্যালুমিনিয়াম সরবরাহের প্রায় ৪ থেকে ৯ শতাংশ এই অঞ্চল থেকে আসে। এ কারণে এই হামলা বৈশ্বিক সরবরাহকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে’।
গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বাহরাইনসহ উপসাগরীয় দেশগুলোতে নিয়মিত ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা হয়েছে। এখন এই সংঘাত পঞ্চম সপ্তাহে গড়িয়েছে।
এদিকে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, নতুন করে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ মার্কিন সেনা ইউএসএস ট্রিপোলি জাহাজে করে মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছে। সব মিলিয়ে সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা আরও বাড়বে বলেই আশঙ্কা ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।